দিনাজপুরের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাকারবারীরা প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয় মাদকসহ বিভিন্ন মালামাল আনছে। এমনকি সীমান্তের ওপার থেকে ভারতীয় অস্ত্র ও গানপাউডার আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সীমান্তের ওপার থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র এপারে আসায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়ে যায়। ২০১৩ সালে সীমান্তের ওপার থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদকসহ নানা পণ্য আনা হয়েছে। তার সিকি অংশ আটক করেছে সীমান্তের বিজিবি সদস্যরা। সীমান্তের ওপার থেকে বানের পানির মত মাদক আসা শুরু হয়েছে। সীমান্তের ওপারের চোরাকারবারীরা মাদক পাচার করলেও তারা সীমান্তের ওপার থেকে অন্য পণ্য যেমন গরু, ধান-চাল এপারে আনতে দিতে চায় না। এপারের চোরাকারবারীরা সীমান্তের ওপার থেকে গরু আনলেও ধরা পড়লে তাদেরকে বিএসএফ কর্তৃক গুলি করে হত্যার ঘটনা অহরহ ঘটছে।
জয়পুরহাট বিজিবির সীমান্ত এলাকার মধ্যে বাসুদেবপুর, কয়া, কড়িয়া, আটাপাড়া, মংলা সীমান্ত দিয়ে দিনে ও রাতে চোরাকারবারীরা তাদের ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ৪০ বিজিবির আওতায় বিরামপুরের কাটলা, দেশমা, চৌঠা, ঘাসুরিয়া সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ভারত থেকে যে সব মালামাল চোরাপথে আনা হচ্ছে তার মধ্যে ফেন্সিডিল, হেরোইন, গাঁজা, বিস্কুট, কামিনী সেন্ট, গরু, প্যান্টের কাপড়, শার্টের কাপড়, কসমেটিক্স, স্টিল সামগ্রী, ইমিটেশন অলংকার, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, সেনেগ্রা ট্যাবলেট, ব্যাক পেয়ার, জিরা, মোটরসাইকেল পার্টস, গাড়ির যন্ত্রাংস, ফলমুল, পিঁয়াজ, আদা, চাদর, সার ইত্যাদি। সীমান্তের এপার থেকে ইলেক্ট্রনিক্স জাতীয় সামগ্রী বৈদ্যুতিক তার, তেল, খাদ্যসামগ্রী আলু, হুন্ডির টাকা, সোনা, রুপা, কাঁসা, পিতল ইত্যাদি যাচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উেকাচের বিনিময়ে চোরাকারবারীদেরকে সহযোগিতা করছে। সহযোগিতা করার ফলে চোরাকারবারীরা ঐসব মালামাল সীমান্তের ওপার থেকে আনছে। চোরাকারবারী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশলে যানবাহনে করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবৈধ মালামালসহ মাদক নিয়ে চোরাই পথে নিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ ও হাকিমপুর থানার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তা ব্যক্তিরা চোরাচালানের লাইন অঘোষিতভাবে ডাক দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ কারণে এই অঞ্চলে যে সব পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন তারা বদলী হলেও বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে আবার তারা ঐ স্থানে ফিরে এসে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন।
