তিন মিটারের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হলে বর্তমানে উপকূলের প্রায় ৮০ লাখ লোক বিপন্ন হবে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছতে পারে। এ ছাড়া আরো অতিরিক্ত ৯০ লাখ উপকূলবাসী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে পড়ার অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় আরো জানা গেছে, উপকূলের পিরোজপুর, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার ১৭টি পোল্ডারের আওতায় প্রায় ৬শ কিলোমিটার বাঁধ এখন খুবই বিপজ্জনক। কোস্টাল এমব্যাংকমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিইআইপি-১) নামের ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্প এই বাঁধের পদ্ধতিগত উন্নয়নের জন্য বাস্তবায়নের পথে। ৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে পোল্ডার বাউন্ডারির আওতায় আনতে এই প্রকল্পটি মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করবে। তারপরও উপকূলবাসী ঝুঁকি হ্রাসের আওতার বাইরে থেকে যাবে।
বাংলাদেশের উপকূল জুড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, সিডর, আইলা, নার্গিসের কবলে পড়ে এই বাঁধের বেশিরভাগ দুর্বল হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে (এপ্রিল, মে এবং অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর) এ কারণে উপকূলবাসী দুর্যোগ ঝুঁকির সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এ বাঁধগুলি ৬০ দশকে নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দীতেও চাহিদা অনুযায়ী সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয় নি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জও বিবেচনায় আনা হয় নি। জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কিছু বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঝে মাঝে মেরামতে শত শত কোটি টাকা খরচ করে। জানা গেছে, ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় উপকূলীয় এলাকার খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পিরোজপুরের বহু বাঁধ তছনছ হয়ে যায়। দুই বছর পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের বেশিরভাগ এলাকা সংস্কার করা সম্ভব হলেও সংস্কারকৃত বাঁধের মান এবং স্থায়িত্ব নিয়ে বহু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাঁধের বেশিরভাগ এলাকায় এখন বর্ষা মৌসুমে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে পানি ছুঁই ছুঁই করে।
ভরাকাটালে ইতিমধ্যে সংস্কারকৃত বাঁধ বা পুনর্নির্মিত বাঁধের অনেক এলাকা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এমনি অবস্থায় সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসে এই নড়বড়ে ও ভঙ্গুর প্রায় বাঁধই জীবনের ঝুঁকি হিসাবে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকার ভুক্তভোগী উপকূলবাসী। পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় জেলাসমূহে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার বাঁধের আওতায় বসবাসকারী প্রায় দুই কোটি উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে।
