আর ক’দিন পরেই কড়কড়ে পোড়া মরিচ দিয়ে পান্তা ইলিশ খাওয়ার ধুম পড়বে বাংলায়। হ্যাঁ দরজায় কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ, যার সঙ্গে মিশে আছে আমাদের গর্ব ও ঐতিহ্য। সমগ্র বাংলা আবার সাজবে নতুন সাজে। নববর্ষকে ঘিরে সবার থাকে নানা স্বপ্ন আর বাহারি পরিকল্পনা। অনেকে আবার চোখে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেন নানা ভুল। বাঙালির এই পহেলা বৈশাখের আছে ঐতিহাসিক পটভূমি। এই তো আর কয়েকদিন পর বিদায় নেবে বাংলা বর্ষ ১৪২০ আর আগমন ঘটবে নতুন বছর ১৪২১। নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয়ে রঙিন ও বর্ণিল হয়ে বাঙালি বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। তারই প্রস্তুতি চলছে বাংলার সর্বত্র। নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ, বৈশাখীমেলা—এগুলো যেন বাঙালি ঐতিহ্যের একই সুতোয় গাঁথা সংস্কৃতি। বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ঐতিহাসিক শিকড় আমরা মোঘল আমল থেকেই পেয়েছি। সম্রাট আকবরের আমলে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে যে ইলাহী সন চালু হয়েছিল, তা-ই বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। কৃষকশ্রেণির সেই ফসলি সন এখন বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। কৃষকরা পহেলা বৈশাখের আগে তাদের সব হিসাব চুকিয়ে পুরাতন বছরের সকল গ্লানিকে মুছে ফেলে নব উদ্যমে বছরটি শুরু করতে সদা তত্পর থাকতো। সকল প্রকার ব্যবসায়িক লেনদেনের সমাপ্তি টানা হতো পহেলা বৈশাখের আগেই। আর পহেলা বৈশাখে হালখাতার মাধ্যমে নতুনভাবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন বছরের আগমনে বাঙালি উত্ফুল্ল হয়, আনন্দের জোয়ারে ভাসে। রমনার বটমূল বৈশাখী আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এই বৈশাখীর রঙ লাগে গোটা দেশে, গোটা বিশ্বের আনাচে কানাচে— যেখানে বাঙালি আছে। নববর্ষের রঙের ঢেউ তাই এখনও বিশ্বের আনাচে কানাচে খেলা করছে। মেলার অর্থ মিলন বা সম্মিলন। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে মেলা হয়ে থাকে। আজও দেশে বিদেশে যেখানে বাঙালি আছে সেখানে এই চিরায়ত রূপ ধারণ করছে আর বিশ্বব্যাপী জানান দিচ্ছে এক অনন্য নববর্ষ পালনের সংস্কৃতি চর্চার রীতি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
