নেপাল ক্রিকেটে বিস্ফোরণ

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৯
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের বয়সটা খুব বেশি দিনের নয়। কদিন আগে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়েই প্রথম বারের মতো বড় মঞ্চে আবির্ভাব ঘটে নেপালের। প্রথম পর্বে দলটির পারফরম্যান্সও ছিল বেশ চোখে পড়ার মতোই। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার চার দিনের মাথায় আবারও শিরোনামে আসলো নেপাল ক্রিকেট। তবে, এবার কোন সেই কারণটা মোটেই ইতিবাচক নয়। বোর্ডের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটকে বয়কট করেছেন নেপালী ক্রিকেটাররা। গত নয় এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া জাতীয় ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেপালের জাতীয় ক্রিকেটাররা। নেপাল জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক পরশ খাড়কা গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এমন ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে পারিশ্রমিক না পাওয়া, টুর্নামেন্টের ভেন্যু ও সময়সূচিতে পরিবর্তন, গত জানুয়ারিতে কনুইয়ের ইনজুরিতে পড়া সাবেক অধিনায়ক পৃথু বাসকোটার প্রতি বোর্ডের অবজ্ঞা—এই তিনটি সমস্যা সংবাদ সম্মেলনে সামনে নিয়ে আসেন পরশ। বিরক্তি প্রকাশ করে ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি বলেন, ‘সিস্টেমটাই এমন যে আমরা সবাই স্বেচ্ছাসেবক হয়ে আছি। এর ফলে খেলোয়াড়রা অনেক সমস্যায় পড়ছেন। সিস্টেমে যদি পরিবর্তন আসে তাহলে নেপাল ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা সব কিছু করতে রাজি আছি। খেলোয়াড়রা এখন অনেক বিরক্ত। একই সাথে এই মুহূর্তে আমরা সবার যেকোন ধরনের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আশা করি বোর্ডও প্রস্তুত থাকবে।’ খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে জানা গেছে গত প্রায় ছয় মাসের বেশি সময় ধরে তারা পারিশ্রমিক পাচ্ছেন না। কদিন বাদেই এসিসি প্রিমিয়ার লিগ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার কথা নেপালের। এর মাঝে এই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট। এর সাথে ভেন্যুও খেলোয়াড়দের পছন্দমাফিক হয়নি বলে জানালেন খাড়কা, ‘১০ এপ্রিল ১৮ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করার কথা ছিল। আর নয় তারিখ থেকে শুরু এই টুর্নামেন্ট। এটা ক্যালেন্ডারেও নেই। এই টুর্নামেন্ট খেললে আমরা এসিসি প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতির একদমই সময় পাবো না। সাধারণত এই জাতীয় টুর্নামেন্টের জন্য আমরা এক মাস সময় প্রস্তুতির জন্য পাই। এরপরও আমরা ভাল সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে বোর্ডকে জানিয়েছিলাম টুর্নামেন্টটা কাঠমান্ডুতে আয়োজনের জন্য। কিন্তু এখন এটা পোখরাতে অনুষ্ঠিত হবে।’ যদিও খেলোয়াড়দের এমন বিস্ফোরক সিদ্ধান্তের কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব নেপালের (সিএএন) এর সাধারণ সম্পাদক অশোক নাথ প্যাকরুয়্যাল। বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে দেরি হওয়ায় এক সপ্তাহ আগে খেলোয়াড়দের সাথে আমাদের বৈঠক হয়েছে। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণেই এরকম হচ্ছে বলে তখন খেলোয়াড়দের জানানো হয়। তখন এটাও বলা হয় যে, কিছুদিনের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হবে। সেই বৈঠকের পর কিভাবে খেলোয়াড়রা এরকম একটা কাজ করলো সেটা বুঝতে পারছি না। বোর্ড আগামী দু’দিনের মধ্যে এই ব্যাপারে বৈঠকে বসবে এবং এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে যাচ্ছে সেটা নির্ধারণ করবে।’