রাজশাহীতে নববর্ষের ইলিশ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:১২
পয়লা বৈশাখ বর্ষবরণে শহরের বাঙালির রসনা বিলাসের জন্য ইলিশ চাই। চারিদিকে চলছে কতই না আয়োজন। সকলেরই খাবার তালিকায় পান্তা-ইলিশ চাই। কিন্তু বাজারে গিয়ে সাধ্যের কাছে হার মানতে হয়েছে অনেককেই। বাংলা নতুন বছর শুরুর আগেই রাজশাহী নগরীতে এবার ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই বর্ষবরণের খাবার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন পছন্দের ইলিশ। অনেকে আবার ইলিশের নামে জাটকা কিনে দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা করছেন। রাজশাহীর বাজারে শুক্রবার ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে। আর জাটকা বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে। নগরীর নিউমার্কেট ও সাহেববাজার ইলিশের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২৫০ গ্রামের পর্যন্ত জাটকার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। ৩৫০ গ্রাম ওজনের জাটকা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫৫০ টাকা, ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। অবশ্য নগরীর সাহেববাজারের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা সেরাজুল ইসলাম বলেন, এবার ইলিশের দাম তুলনামূলক কম। কিন্তু সেই অনুযায়ী ক্রেতা নেই। গত বছর ইলিশের দাম বেশি থাকার পরেও প্রতিদিন তিনি ১৫ থেকে ২০ মণ ইলিশ বিক্রি করেছেন। শহরের বাইরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকে আসতেন পাইকারি ইলিশ কিনতে। কিন্তু বর্তমান বাজার মন্দার কারণে ১০ থেকে ১২ মণ ইলিশ প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বুঝে মোকাম থেকে রাজশাহীতে ইলিশ নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সাহেব বাজারের খুচরা মাছ ব্যবসায়ী মহিরুল ইসলাম বলেন, আগে থেকেই কিনে রাখায় কিংবা আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বাজারে ক্রেতারা আসছেন না। আবার দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে বিক্রি তেমন নেই। সাহেববাজারে ইলিশ কিনতে আসা নাজমুল হোসেন জানান, পহেলা বৈশাখের কারণে দফায় দফায় ইলিশের দাম বেড়েছে। এখন অনেকটাই সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। মানুষের আয় কমে যাওয়ায় তাদের মনে এখন আর পয়লা বৈশাখের আনন্দ নেই। তাই অনেকেই কিনতে পারছেন না।