‘গ্রামীণ ব্যাংক বিধিমালা-২০১৪’র তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্তমান পরিচালকরা। ব্যাংকের সকল নির্বাচিত পরিচালকের পক্ষে তাহসিনা খাতুন এক বিবৃতিতে গতকাল উল্লেখ করেন, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে সরকার। বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের তোড়জোড় করছে সরকার, যা বিশেষ উদ্দেশ্য-প্রণোদিত। বিগত তিন দশক ধরে বর্তমান পদ্ধতিতেই সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের পরিচালক নির্বাচন করে আসছে। সদস্যদের মধ্য থেকে বা অন্য কোন মহল থেকে এ বিষয়ে কখনো কোন অভিযোগ ওঠেনি। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন ধরণের অনিয়ম বা দূর্নীতির অভিযোগও ওঠেনি। সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে না আসলে গ্রামীণ ব্যাংকের ৮৪ লাখ সদস্য সম্মিলিতভাবে তাদের ব্যাংক ধ্বংসের এই অপচেষ্টা প্রতিহত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সমপ্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ‘গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা-২০১৪’ জারী করা হয়েছে। এতে পরিচালক নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মচারীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে নির্বাচনী কাজে নির্বাচন কমিশনের ন্যায়ানুগ আদেশ পরিপালনে অনীহা প্রদর্শনকারী কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত আদেশ জারি করাসহ বিভাগীয় মামলা চালু এবং এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধিমালা প্রবর্তনের ছয় মাসের মধ্যে পরিচালক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান নির্বাচিত পরিচালকদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। নির্বাচিত পরিচালকদের মেয়াদ হবে তিন বছর। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কর্তৃক মনোনীত একজন নির্বাহী পরিচালক প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। অপর দুই সদস্যের মধ্যে মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন করবেন গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং পরিচালক পর্যায়ের একজনকে মনোনয়ন দেবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি। গঠিত এ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন অনুষ্ঠান ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে সামগ্রিকভাবে দায়ী থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে তাহসিনা খাতুন বলেন, স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও রাজনৈতিক রূপ পাবে। কোন্দল, টাকার খেলা, পারষ্পরিক কূত্সা - এগুলো ভোটের আগে ও পরে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি ও হানাহানি তৈরি করবে। শৃংখলা বলে কিছুই থাকবে না নোবেল বিজয়ী পৃথিবীর এই সেরা প্রতিষ্ঠানে। গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করার জন্যই এই ষড়যন্ত্র।
