হঠাত্ করেই দিল্লির ক্ষমতায় এসেছিলো আম আদমি পার্টি (এএপি)। আর ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৯দিনের মাথায় হুট করেই সরকার ভেঙে দিয়েছিলেন এএপির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কিন্তু হুট করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেয়া যে ভুল ছিলো সে কথা স্বীকার করেছেন তিনি। এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। তবে এ কারণে এএপি’র সঙ্গে জনগণের মধ্যে দুরত্বের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে এএপি এ ব্যাপারে আরো বেশি সতর্ক হবে বলে ভারতের ইংরেজি পত্রিকা ইকোনমিক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভারতের টাইমস ইন্ডিয়ার অনলাইনে সাক্ষাত্কারটি প্রকাশ করা হয়েছে।
চলমান লোকসভা নির্বাচনে এএপির প্রার্থীরা কতটি আসন পেতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, আসন সংখ্যা নিয়ে আমাদের কোনো টার্গেট নেই। এএপি যদি বারানসি ও আমেথি আসনে জয় পায় তাহলে এই দুটি আসনই ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দেবে। তিনি বলেন, আমেথি ও বারানসিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদী পরাজিত হলে তাদের দল ২০০ আসন পেলেও কোনো লাভ হবে না। আমি নিশ্চিত বিজেপি ১৮০টির বেশি আসন পাবে না। সব হিসাব-নিকাশ করেই বলছি মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের ফল হবে খন্ডিত, আগামী এক বছরের মধ্যে আমাদের পুনঃনির্বাচন করতে হবে।
এএপি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সমর্থন হারিয়েছে বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কেজরিওয়াল বলেন, দুই ধরনের মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেয়ায় হতাশ হয়েছে। এক শ্রেনী মনে করেন, ক্ষমতায় থেকে কাজ করলে আমরা অনেক বেশি ভোট পেতাম। আর একটি শ্রেণী আমাকে মুখ্যমন্ত্রী ও নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চেয়েছিলো। ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোয় তারা ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। তবে তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়।
ভারতের খুচরা বাজারে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বিরোধিতা করেছে বিজেপি। এক্ষেত্রে এএপির অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিজেপি তাদের ইশতেহারে মিথ্যাচার করেছে। মোদী এফডিআই’র পক্ষে। তিনি নিজেই এর সূচনা করতে চান।
বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোদী মনমোহনের চেয়ে মোটেও ভিন্ন নন। শক্তিশালীদের উপকারের জন্য মানুষের রক্ত শুষে নেয়ার ব্যবস্থার তিনিও অংশ। এ ব্যবস্থা বদলাতে হবে। মোদী তার বউয়ের কথা স্বীকার করেছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
