ইসি ও মমতার বিরোধ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ‘উত্তপ্ত’ রাজনীতি

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৪
ভারতের চলতি লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ জেলায় পুলিশের পাঁচ এসপি, একজন ডিসি এবং একজন এডিসিকে বদলির নির্দেশ দিলে অজ্ঞাত কারণে বিরক্ত হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তার রাজ্য কখনো এই নির্দেশ কার্যকর করবে না। কিন্তু নির্বাচন কমিশন জানায়, তাদের কাছে অভিযোগ আছে যে এই কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি সত্ত্বেও মমতা কিছুতেই পরাজয় স্বীকার করতে রাজি ছিলেন না। উল্টো নির্বাচন কমিশনকেই বদলির দাবি থেকে পিছু হটতে বললেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেস বাদে প্রায় সবগুলো দল এই বদলির পক্ষে সরব হয়। মমতা কেন অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছেন তা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মমতা তার অবস্থানে অনড় থাকতে পারেননি। নির্বাচন কমিশন হুমকি দিয়ে বলে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোট পিছিয়ে দেয়া হবে, কিন্তু বদলি আদেশ বাতিল হবে না। ইসি-মমতার এই লড়াইয়ে কার জয় হয় তা দেখার জন্য সবাই যখন অপেক্ষায় ছিল তখন হার স্বীকার করে নেন মমতা। বুধবার সকালে ভারতের প্রায় সবকটি সংবাদপত্রের প্রথম পাতার শিরোনাম ছিল, পিছু হটলেন মমতা। নতিস্বীকার করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। অথচ বদলির আদেশ দেয়ার পর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করেছিলেন মমতা। আর তাতে অতি উত্সাহিত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কুশপুত্তলিকা দাহ করতে শুরু করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পিছু হটায় এখন মমতাকে কটাক্ষ শুনতে হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, লোকসভা ভোট সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে আয়োজনের স্বার্থে ভারতের নির্বাচন কমিশন যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তা পালন করা যেকোন রাাজ্য সরকার সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর প্রশাসনিক ব্যাপারে কোনো সুপারিশ করা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া আছে ভারতের সংবিধানে। কোনো সরকারের সাংবিধানিক সামর্থ্য নেই সেই ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করার। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি সব জেনেশুনেও ভারতের নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাকে তাচ্ছিল্য কেন করতে গেলেন সেই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে গেলে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের বিকল্প নেই। ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে শক্তিপ্রদর্শন করতে যাওয়া মমতার উচিত হয়নি বলে অনেকে মন্তব্য করেছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক নেতা তার ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং মুখ্যমন্ত্রী পিছিয়ে আসায় শুধু তার নিজের মুখ পোড়েনি, মুখ পুড়েছে পশ্চিমবঙ্গেরও। সারা দেশ জানল, বাংলা মায়ের দামাল মেয়ে ভাষণ জানেন, সংবিধান জানেন না!’’ অপরদিকে, ময়দানে নেমেও পড়েছেন অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীরাও। তারাও মমতার বিরুদ্ধ সংবিধান না জানার অভিযোগ তুলে ভোটবাক্সের রাজনীতিতে কিছুটা সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অশোক গাঙ্গুলি বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী শিষ্টাচার ও সংবিধান কোনোটি মানছেন না। বদলি কান্ড নিয়ে মমতার ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র ফেরাতে সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধে নামতে হবে। সাবেক এই প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, প্রশাসনিক প্রধানের পদে থেকে কীভাবে কমিশনের নির্দেশের অবমাননা করেন মুখ্যমন্ত্রী?