দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) নথি হাইকোর্টে গেছে। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে এ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ ব্যবস্থায় পেপারবুক প্রস্তুত করবে। বর্তমানে পিলখানা হত্যা মামলার পেপারবুক প্রস্তুতের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফরেন্সের পেপারবুক তৈরি হবে। ইতিমধ্যে পেপারবুক তৈরি করার জন্য জাপান থেকে তিনটি ডিজিটাল ডুপ্লিকেটিং মেশিন আমদানি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মেশিনগুলো সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনে রেখে দ্রুত পেপারবুক প্রস্তুতের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। এই তিনটি মেশিন ক্রয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টকে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়।
গত ৩০ জানুয়ারি দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলার রায় ঘোষণা করে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত। এর মধ্যে চোরাচালান মামলার রায় ২৬০ পৃষ্ঠা এবং অস্ত্র আটক মামলার রায় ২৫৪ পৃষ্ঠা। চোরাচালান মামলার রায়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। সেইসঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে করা হয় ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা। এছাড়া অস্ত্র আটক মামলায় অস্ত্র আইনের দুটি ধারায় এই ১৪ জনকে যাবজ্জীবন ও ৭ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া মামলাটি ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে এসেছে। ইতিমধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল করেছেন আসামিরা। অনেকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি নিয়েছেন নিয়মিত আপিল দায়েরের জন্য। রায় পর্যালোচনা শেষ হলেই আসামির আইনজীবীরা হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়মিত আপিল দায়ের করবেন।
উল্লেখ্য, কোন ফৌজদারি আদালতে কারো ফাঁসি হলে ওই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা মোতাবেক দেয়া এই চিঠিতে ফাঁসির রায়ের অংশবিশেষ তুলে ধরে বলা হয়, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার আদেশ হলো। তাই হাইকোর্টের সদয় অনুমোদনের জন্য মামলার কাগজপত্র, সিডি, মূল নথি ও যাবতীয় প্রসিডিংস পেশ করা হলো। এরপর শুধু মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সাতদিনের এবং যাবজ্জীবনসহ অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা রায়ের কপি প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করার সুযোগ পান। এরপর পেপারবুক প্রস্তুতের পরই আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাইকোর্টে আসে।
উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি সালের ক্রম অনুসারে হয়ে থাকে। সেই হিসাবে এখন ২০০৯ সালের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। সালের ক্রম অনুসারে পিলখানা হত্যা ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করতে গেলে আরো ৫/৬ বছর সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পিলখানা হত্যা ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানির ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক ভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দুটি মামলা হয়। সিআইডি পুলিশ দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করে।
