এখানকার চা বাগানগুলোতে শুরু হয়ে গেছে পাতা তোলার কাজ। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ডিসেম্বরের শুরু থেকে পরবর্তী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত চা বাগানে পাতা উত্তোলন বন্ধ থাকে। ওই সময়ে চা গাছের পরিচর্যা, কারখানার বিভিন্ন মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এই মৌসুমে চা গাছ টিকিয়ে রাখতে মালিকরা স্ব স্ব বাগান সেচ দেয়ার চেষ্টা করেন। মার্চ এপ্রিলে বৃষ্টিপাত হলে গাছে কচি চা পাতা গজাতে থাকে। শুরু হয় নতুন করে চায়ের উত্পাদন।
চা বাগানের কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানান, ডিসেম্বরে চা গাছের মাথা ছেটে দেয়ার প্রায় ৪ মাস পর চা বাগানে গাছে গাছে সবুজ পত্রমঞ্জুরী দেখা দেয়। এ বছর যথা সময়ে এই পত্রমঞ্জুরী দেখা দিয়েছে। ফলে পাতা উত্তোলনকারী শ্রমিকরা সহজেই পাতা তুলতে পারছেন। নির্ধারিত পাতা উত্তোলনের পর অতিরিক্ত পাতা তোলার ফলে অতিরিক্ত মজুরি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। বেশি করে পাতা তুলতে পারলে বেশি মজুরি পাবেন এমন আশায় চা শ্রমিকদের ঘরে ঘরে পূজা অর্চনা ও দোয়া মাহফিল হচ্ছে, বিতরণ করা হচ্ছে সিন্নি।
গতকাল শনিবার সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রী গোবিন্দ্রপুর চা বাগানে পাতা তোলার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাগানের মালিক শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসীন মিয়া মধু। এসময় বিভিন্ন চা বাগানের মালিক, ব্যবস্থাপক, চা শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়ম মেনে গাছের পরিচর্যা করলে একটি চা গাছ ৬০ বছর পর্যন্ত ফলন দেবে। তাছাড়া পরিমিত বৃষ্টিপাত হলে এবছরও গত বছরের ন্যায় উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
