পদ্মার ডান তীরে বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড এবং পদ্মায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে’র (বিজিবি) নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় ১৭৪ কোটি টাকার প্রকল্প এখনো অনুমোদন পায়নি। সময়মত পদ্মার তীর প্রতিরক্ষার কাজ না করলে আগামী বর্ষায় পদ্মা উল্লেখিত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়বে। ফলে বাংলাদেশ হারাবে ভূখণ্ড এবং পদ্মায় বিজিবি হারাবে একক নিয়ন্ত্রণ। এ আশঙ্কা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের। তারা জানান, গত বর্ষায় পদ্মা ৫০ থেকে ৬০ ফুট ভারতের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ বলেন, ১৭৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি। বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসের পরই বর্ষাকাল। এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে স্বল্প সময়ে নদীর তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা বেশ কষ্টকর। বর্তমানে নদী ভাঙ্গনের যে অবস্থা তাতে এবার যদি নদীর তীরে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা না যায় তাহলে সীমান্ত রক্ষা নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়তে হতে পারে। রাজশাহীস্থ বিজিবি’র ৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাজিম খান বলেন, গত বর্ষায় পদ্মা যেভাবে গতিপথ পরিবর্তন করেছে তাতে চরমাজারদিয়াঢ় ও খানপুরের মধ্যবর্তী কলাপাড়া এলাকার ১৬৪ নম্বর মেইন পিলার থেকে ১৬৫ নম্বর মেইন পিলার পর্যন্ত সীমান্তের জিরোলাইন ভেঙ্গে ভারতের সীমানায় প্রবেশ করেছে পদ্মা। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ প্রায় সময় সেখানকার ৫০ থেকে ৬০ ফুট এলাকা তাদের বলে দাবি করছে। সেখানকার সীমান্ত পিলারগুলো পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীকে বিএসএফ স্বাভাবিক চলাচল করতে বাধা দিচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা ছিল। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
