সংবিধান লংঘন করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৮
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সারাদেশে সুষ্ঠুভাবে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেই জনগণ তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পেরেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছি নির্বাচনগুলো যাতে যেন-তেন মতো না হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ সবদলের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়ে আসতে পেরেছেন। একটি সরকার যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারে সেটি এ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, উপজেলা নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ চাইলে জামায়াতে ইসলাম একটি আসনেও নির্বাচিত হতে পারতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তার বাসভবন গণভবনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যানদ্বয় এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সাক্ষাত্ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে বলেছিল তারা উপজেলা পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে না, আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উপজেলা নিয়ে একটি কমিটি গঠন করি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকারকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, তার জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে উপজেলা পদ্ধতিতে আর যায়নি। ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী ব্যক্তির হাতে যে দল গঠন হয়েছে সে দলও অবৈধ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য সে অবৈধ দল থেকে ছবক শুনতে হয়। যারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদেরকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ে জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কাজেই সেই জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিও অবৈধ। শেখ হাসিনা বলেন, তারা হাইকোর্টের রায় মানে না। প্রথম রাষ্ট্রপতি নিয়ে কে প্রশ্ন উঠালো? যার বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন মেজর ছিলেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমোশন দিয়ে যাকে মেজর জেনারেল করেছিলেন। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী খন্দকার মোশতাকের হাতে জিয়া হলেন সেনা প্রধান। সেনা প্রধান হয়ে তিনি তাহের, খালেদ মোশাররফসহ বহু মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খন্দকার মোশতাককে বিদায় দেয়ার পর সায়েম সাহেবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। পরে তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন জিয়া। তিনি বলেন, আর্মি রুল ও সংবিধান ভঙ্গ করে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। পরে তিনি হ্যাঁ-না ভোট করেন। সে সময় থেকে ভোট কারচুপি শুরু হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ইতিহাস কেউ বিকৃতি করতে পারবে না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যে সমস্ত রাজাকার, আলবদর ও যুদ্ধাপরাধীর হাতে জিয়াউর রহমান জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন তাদের বিচার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘লাখো কণ্ঠে আমার সোনার বাংলা’ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে নিয়েছে। এ রেকর্ডের মাধ্যমে বাঙালি জাতি আবার প্রমাণ করেছে দেশ প্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দেশ একদিন বঙ্গবন্ধুর কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলায় পরিণত হবে। টুঙ্গিপাড়ার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হয়ে গেছে, পরস্পরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে হবে, মিলেমিশে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, ভাইস চেয়ারম্যান অসীম কুমার বিশ্বাস ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফসানা বেগম মিমি বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠান শুরুর আগে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া প্রদান করা হয়।