বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলা বর্ষবরণ ও পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নগরীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নজরুল স্কয়ার, সিআরবি সাত রাস্তার মাথা, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি (বাওয়া) স্কুল মাঠ, চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ প্রধান ভেন্যুগুলোতে থাকবে তিনস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিএমপি‘র অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) বনজ কুমার মজুমদার জানান, বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের আয়োজনকে শান্তিপূর্ণ করতে নগরীতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নগরবাসী যাতে প্রতিবারের মতো এবারও উত্সবমুখর পরিবেশে উত্সব করতে পারেন সেজন্য পুলিশ মাঠে সক্রিয় রয়েছে। তিনি জানান, ডিসি হিলসহ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি ভেন্যুর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ রবিবার বিকাল থেকেই শুরু হবে বর্ষবিদায় ও বরণের নানা আয়োজন। চিরায়ত বৈশাখী মেলা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে বাংলা ১৪২১ সালকে বরণ করে নেবেন বন্দরনগরীর মানুষ। ইলিশ পান্তার পাশাপাশি নানা স্বাদের পিঠাপুলি দিয়ে অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি নিয়েছেন নগরবাসী। এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা আজ সকল দেনা-পাওনার পাট চুকিয়ে পুরানো বছরের হিসাবের খাতা বন্ধ করবেন। কাল সকাল থেকে শুরু হবে হালখাতা। বাঙালির চিরায়ত এ ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জসহ চট্টগ্রামের বাণিজ্যকেন্দ্রগুলোতেও ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। প্রতিবারের মতো এবারও বর্ষবিদায় ও বরণের মূল অনুষ্ঠান হবে নগরীর ডিসি হিলে। তবে সারা নগরীতেই এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। ৩৬ বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ডিসি হিলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী মেলা আয়োজন করছে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ।
‘পহেলা বৈশাখ বাঙালির উত্সব, সবারযোগে জয়যুক্ত হোক’ এই শ্লোগানকে উপজীব্য করে ডিসি হিলে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ঢোলক বাদন, গান, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক, কবিগান, লালনগীতি, মাইজভান্ডারী ও মরমী গান, উপজাতীয় শিল্পীদের পরিবেশনা,সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় সঙ্গীত, বৃন্দ আবৃত্তি, কবিতা পাঠ, সম্মাননা প্রদান এবং বৈশাখী মেলা। বর্ষবিদায়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে বিকাল চারটায়। আগামীকাল ভোর ৬টায় শিল্পী আজিজুল ইসলামের বংশীবাদনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে। এছাড়া ডিসি হিলের আশপাশে এক কিলোমিটার এলাকায় বসবে চিরায়ত বৈশাখী মেলা। আয়োজকরা আশাবাদী এবারও নজরুল স্কয়ারকে ঘিরে লাখো মানুষের ঢল নামবে।
গত কয়েক বছরের মত এবারও নগরীর সিআরবির সাত রাস্তার মাথায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান করবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ। চিরায়ত বৈশাখী মেলাসহ ঐতিহ্যবাহী বলি খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে এখানে।
বাওয়া স্কুল মাঠে বাংলা বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় সম্মিলন পরিষদের উদ্যোগে দুই দিনের অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে আজ রবিবার। প্রতিবারের মতো এবারও চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বের করবে মঙ্গল শোভা যাত্রা ও বর্ণাঢ্য র্যালী। এছাড়া চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্ষবরণ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।
