কালাজ্বরের জীবাণুবাহক ‘স্যান্ডফ্লাই’ (বেলেমাছি) দমনে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে দেশের ২৬ জেলার ১০০ উপজেলার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। স্যান্ডফ্লাই নিধনে ওষুধ সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ বছরে ওই সিন্ডিকেটটি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে সহস াধিক কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগেও কালাজ্বরের ওষুধ সরবরাহ নিয়ে চরম কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। উপদ্রুত এলাকায় ওষুধ খেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সিডিসি) অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, দেশের ২৬ জেলার ১০০ উপজেলা কালাজ্বরপ্রবণ এলাকা। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে কালাজ্বর বেশি হয়ে থাকে। এ সময় বৃষ্টিপাত হয় বলে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারণে বেলেমাছির প্রজনন বেড়ে যায়। শীতকালে কম থাকে। তিনি বলেন, তিন বছর ধরে কালাজ্বরের জীবাণু বাহক বেলেমাছি নিধনের ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণের ফলে আক্রান্ত এলাকা কমে ২৬ জেলায় এসে পৌঁছেছে। আগে আক্রান্ত জেলা ছিল ৪০টি এবং উপজেলা ছিল ১৩০টি। জীবাণুনাশক ডেল্টা ম্যাথরিন (৫% ডব্লিউপি) সরবরাহ নিয়ে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি তার বিষয় নয়।
জানা গেছে, বর্ষার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। কিন্তু জটিলতার কারণে এখনও ওষুধ সরবরাহ করা হয়নি।
এদিকে কীটনাশক সরবরাহ নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য খাতের ওই শক্তিশালী সিন্ডিকেটটি কীটনাশক সরবরাহে কৌশলে একটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্তটি হল, কীটনাশক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির কমপক্ষে একবছরের ফিল্ডট্রায়ালের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নইলে কীটনাশক সরবরাহ করতে পারবে না। কিন্তু কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের গেজেট মতে ওই সিন্ডিকেটের শর্তটি বেআইনি। জানা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে স্যান্ডফ্লাইসহ এধরনের কীটনাশক সরবরাহের জন্য বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে। ফিল্ড ট্রায়ালসহ সব ধরনের পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে অধিদপ্তর ওই সকল প্রতিষ্ঠানকে কীটনাশক সরবরাহের জন্য লাইসেন্স দেয়। বিষয়টি গেজেটে আকারেও প্রকাশ করা হয়।
এমতাবস্থায় নতুন করে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ শর্ত আরোপ করা বেআইনি। এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
শর্ত আরোপের ফলে সিন্ডিকেট মনোনীত প্রতিষ্ঠানটি একচ্ছত্রভাবে বাণিজ্য করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ফিল্ড ট্রায়ালের করার সুযোগ দিয়ে আর কোন প্রতিষ্ঠানকে এই সুযোগ না দিয়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা বন্ধ করে দেয়।
মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহামুদুর রহমান বলেন, কালাজ্বর উপদ্রব এলাকা থেকে ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য স্যান্ডফ্লাই ধরে ঢাকায় এনে পরীক্ষা করা সম্ভব না। উপদ্রব এলাকায় গিয়ে ফিল্ড ট্রায়াল করতে হবে। এজন্য আর্থিক প্রয়োজন। একারণে ফিল্ড ট্রায়াল বন্ধ রাখা হয়। জনবলসহ অন্য সব ব্যবস্থা ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য আইইডিসিআরে রয়েছে। আর্থিক বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান।
