বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজীনা বলেছেন, জনগণই ঠিক করবেন বর্তমান সরকার ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবে কি না। জনগণের চাওয়ার উপর নির্ভর করছে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকা। জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করাই উচিত। কারণ এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে বলেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পাশে রয়েছে। আমেরিকা সব সময় সকল গণতান্ত্রিক দেশে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই আশাবাদ তাদের। তবে এদেশের সমস্যাগুলোর সমাধান সরকারই করবে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিশেষ করে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আমরা জানিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করে না এবং এ বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকে। শনিবার রংপুর পর্যটন মোটেলে ৭ দিনের উত্তরবঙ্গ সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তরবঙ্গ সফরের অভিজ্ঞতা সমপর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানকার নদী ভাঙ্গন, শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তরাঞ্চলের জন্য বড় সমস্যা। জ্বালানি ও গ্যাসের অভাবে এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। আমার মনে হয়, এগুলোর সমাধান করা সম্ভব। অচিরেই এ সমস্যাগুলোর সমাধান হবে এবং বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমি ৭ দিনের সফরে পাবনা, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট গিয়েছি। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেছি। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলগুলো খুবই সুন্দর। ধানে ধানে ভরে গেছে সারা এলাকা। এখানকার কুটির শিল্প খুবই চমত্কার। আমি শতরঞ্জি পল্লী ঘুরে দেখেছি। কি চমত্কারভাবে তারা এগুলো তৈরি করছে। আমি বুড়িমারী স্থলবন্দরে গিয়েছিলাম, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও ভুটানের বাণিজ্য দেখেছি। ওই বন্দর দিয়ে চীন ও ওইসব দেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার ঘটিয়ে অর্থনীতির ভীত মজবুত করা সম্ভব। তিনি বলেন, এখানকার কৃষিপণ্য বিশেষ করে আলু, ভুট্টা ও ধানের বেশ ভালো ফলন হয়েছে।
