আর ক’দিন পরেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর অনুষ্ঠিত হবে দেশটিতে। কিন্তু ফুটবলের এই মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে কতটা প্রস্তুত ব্রাজিল। দেশটির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিই বা কেমন? বিশেষ করে গেল ক’মাসে রিও ডি জেনিরোতে যেভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অপরাধের সংখ্যা সেখানে এই শহরটির বাসিন্দারাই বা কী ভাবছেন। মূলত এমনই সব প্রশ্ন মাথায় নিয়ে মধ্যবয়সী এক নারীর সাক্ষাত্কার নিচ্ছিলেন ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল টিভি গ্লোবোর এক রিপোর্টার। আর এই রিপোর্টারের কাছে যখন শহরে পুলিশি প্রহরার অভাবের কথা বলছিলেন তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে তার গলার নেকলেসটি একটানে ছিনিয়ে নেয় পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক। অপরাধ প্রবণতা নিয়ে রিপোর্ট করতে এসে খোদ নিজের চোখের সামনেই এমন অপরাধ ঘটতে দেখে প্রথমে যার পর নাই হকচকিয়ে গিয়েছিলেন ওই রিপোর্টার ও তার সহকারী ক্যামেরাম্যান। তবে খানিকটা সম্বিত ফিরে পেতেই হাতে মাইক্রোফোন ধরা অবস্থাতেই ওই ছিনতাইকারীর পিছু নেন রিপোর্টার। অবস্থা বেগতিক বুঝে ছিনতাইকারী তার হাত থেকে ভদ্রমহিলার দ্বিখণ্ডিত নেকলেসখানা ফেলে দিলেও নিজে ঠিকই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আর ছিনতাইকারীর নাটকীয় এই ছিনতাই থেকে শুরু করে তাকে ধাওয়া করার পুরো দৃশ্যটিই পরে ধারণকৃত অবস্থায় প্রচারিত হয় টিভি গ্লোবোর পর্দায়। বলা বাহুল্য, গেল কয়েক মাস থেকেই স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম ব্রাজিলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রচার করলেও অবস্থার উন্নয়নে পুলিশের সফল কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছিল না। এমনকি নানা সময়ে গণমাধ্যমের অনেক অভিযোগও অস্বীকার করে এসেছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এইসব কর্তা ব্যক্তিরা। যদিও এবার টিভি গ্লোবোর এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও তারাও নড়ে চড়ে বসেছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচসহ বেশ কয়েকটি ম্যাচের আয়োজক রিও ডি জেনিরো শহরে গেল এক বছরে বাস ডাকাতির সংখ্যা বেড়েছে ১১৮ শতাংশ এবং মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১২১ শতাংশ। এ ছাড়া শহরটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কমপক্ষে ১৪টি এটিএম থেকে পর্যটকদের এটিএম কার্ডের ভুয়া অনুলিপি তৈরির অভিযোগও উঠেছে।
