ফুল জনপ্রিয় করা, ফুল চাষে আগ্রহ সৃষ্টি ও ফুলের একটি দোকান তৈরির উদ্দেশ্যে মাদারীপুরের কালকিনিতে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ শুরুর ৪ মাসের মধ্যে সাফল্য পাওয়ায় গ্লাডিওলাস ফুলের ব্যবসার অপার সম্ভাবনা। উপজেলা নার্সারি ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বন অধিদপ্তরের নার্সারিতে যশোরের ঝিকরগাছা থেকে ক্রয়কৃত এই ফুলের চাষাবাদ করা হচ্ছে। কৃষি অফিস জানায়, কলম লাগানোর ৭৫-৯০ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে। সব ধরনের মাটিতে গ্লাডিওলাস চাষাবাদ করা যায় তবে বেলে দোআঁঁশ মাটি উত্তম এবং সারাবছর এ ফুলের চাষ করা যায়। গত এক সপ্তাহে ৭শ’ টাকার গ্লাডিওলাস ফুলের স্টিক বিক্রি করা হয়েছে। যে কেউ ৫ টাকা দিয়ে যেকোন সময় একটি ফুলের স্টিক ক্রয় করার ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি যেকোন ধরনের অনুষ্ঠানের জন্য এখান থেকে ফুল ক্রয় করা যাবে। এখন থেকে ফুলের জন্য আর কালকিনির বাইরে যেতে হবে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের রোপণকৃত ১ হাজার কলম থেকে ফুলের পাশাপাশি একবছরে ৫ হাজার কল্ম পাওয়ার প্রত্যাশা করছি। প্রতিটি কলম ৩ টাকা দরে বিক্রি করা যাবে এবং বাছাইকৃত কৃষকদের দিয়ে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা নার্সারি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউএনও মোহাম্মাদ ফজলে আজিম বলেন, ‘আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য হচ্ছে কালকিনিতে একটি ফুলের দোকান তৈরি করা। তারপর বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস ফুলের চাষাবাদ করা’।
গঙ্গা চড়াতেও চাষ হচ্ছে গ্লাডিওলাস ফুল
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, গ্লাডিওলাস চাষ করে সফল হয়েছেন রংপুরের কৃষক রফিকুল ইসলাম। তার বাড়ি সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে। তিনি নিজস্ব ৬ শতক জমিতে উন্নত জাতের গ্লাডিওলাস চাষ করেন। কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন: ধান, গম , আলু কিংবা ভুট্টার চেয়ে গ্লাডিওলাস চাষ করা লাভজনক। তুলনামূলকভাবে ফুল চাষে উত্পাদন খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেন উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র বারি, জয়দেবপুর, গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ফুল বিভাগের গবেষক ড. কবিতা আনজু-মান-আরা এবং গঙ্গাচড়াস্থ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বুড়িরহাট, রংপুরের উদ্যানতত্ত্ব্ববিদ ড. হামিম রেজা।
কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, গ্লাডিওলাস চাষে তার খরচ হয়েছে ২ হাজার টাকা। ফুলগুলো রংপুর স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। ফুলের রং অনুযায়ী প্রতিটি ফুল বিক্রি করেন ৩ টাকা থেকে ৬ টাকায়। খরচ বাদে এতে লাভ হয় ৮ হাজার টাকা।
