উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ চিকিত্সাকেন্দ্র রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আগে ১৮টি ওয়ার্ড থাকলেও বর্তমানে তা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬-এ দাঁড়িয়েছে। তবে ওয়ার্ড সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও সেবিকার সংখ্যা আগের মতোই রয়েছে। ফলে রামেক হাসপাতালে সেবিকা সংকটে চিকিত্সাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দিনে দিনে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। অল্পসংখ্যক সেবিকা দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২শ থেকে প্রায় দেড় হাজার রোগীর চিকিত্সাসেবা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
রামেক সূত্র জানায়, হাসপাতালে সেবিকার বর্তমান সংখ্যা ৩৪৩ জন। এর মধ্যে সাপ্তাহিক, নৈমিত্তিক, শান্তি বিনোদন, অর্জিত ও মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন ৭৫ জন সেবিকা। আবার ওয়ার্ডগুলো ছাড়াও সেবিকাদের ৪৭ জনকে প্রতিদিন পালাক্রমে জরুরি ও বহির্বিভাগ, ডেন্টাল, ওটি, গাইনি, ইএনটি ও চক্ষু ওটি, আইসিইউ ও সিসিইউর কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। রামেক হাসপাতালে সেবিকারা তিন সিফে্ট (৮ ঘণ্টা) দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি শিফটে ৩৬টি ওয়ার্ডে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪০ জন সেবিকা কর্মরত থাকেন।
রামেক হাসপাতালের নার্সিং সুপারেনটেন্ডেন্ট মনিজ্জা খাতুন বলেন, এই হাসপাতালে ১৮টি ওয়ার্ডের জন্য নির্ধারিত ৩৪৩ জন নার্স দিয়ে চলছে ৩৬টি ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার রোগীর সেবার কাজ। যেখানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৫জন রোগীর জন্য ১জন নার্স নিয়োগের নিয়ম রয়েছে, সেখানে রামেক হাসপাতালের প্রতি ২০ থেকে ২৫ জন রোগী গড়ে ১জন করে সেবিকা পাচ্ছেন না।
তিনি আরো জানান, রামেক হাসপাতালে ওয়ার্ডের সংখ্যা যতো বেশি বাড়ছে নার্স সমস্যা ততই প্রকট আকার ধারণ করছে। নার্স সংকটের বিষয়টি অনেকদিন ধরেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও নতুন নার্স নিয়োগে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
জানা যায়, রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোর ৩৩ আসনের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১৮০ থেকে ২০০ পর্যন্ত রোগী ভর্তি থাকে। কিন্তু ওয়ার্ডগুলোতে ২ জনের বেশি সেবিকা দিতে পারে না কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সেবিকাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কাঙিক্ষত সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। এ নিয়ে প্রায় সময়ই ওয়ার্ডে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে।
