বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগ অবস্থিত কক্সবাজার বাংলাদেশের তথা পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর স্বাস্থ্যকর স্থান। বন্ধুরা আজ আমরা জানবো কক্সবাজারের ইতিহাস সম্বন্ধে এবং এর নামকরণ সম্পর্কে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পর্যটকগণ প্রতি বছর কক্সবাজারে আসতে দেখা যায়। আজকের এই কক্সবাজারের ইতিহাস বা ইতিকথা বড় চমত্কার।
১৭৯৭ সালের কথা। তখন এদেশে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্বকাল। এ সময় ক্যাপ্টেন কক্স নামক একজন বার্মার রাজদরবারে কোম্পানীর দূত হিসেবে কাজ করতে যান। বার্মায় তখন অনেক বাঙালি বসবাস করতো। তাদের অনেকে চাকরি করতো, আবার অনেকে চাষাবাদ বা ব্যবসায় রত ছিল। কিছুকালের মধ্যেই বার্মার আরাকান এলাকায় হঠাত্ করে ভীষণ গোলযোগ দেখা যায়। এর ফলে আরাকান এলাকা থেকে বাঙালি বিতাড়ন শুরু হয়। বর্তমান কক্সবাজার, উখিয়া, গুনডুম প্রভৃতি এলাকাতেই অধিকাংশ ছিন্নমূল এসে কোন রকমে আশ্রয় নেয়। শরণার্থীদের দেখাশোনা করা এবং তাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য কোম্পানীর নির্দেশে বার্মার ইংরেজ দূত ক্যাপ্টেন কক্স নিজেই ছুটে এলেন।
তখন ঐ সাগর পাড়ের নামটি কিন্তু কক্সবাজার ছিলো না। এর নাম ছিলো ফালকিং। বর্তমানে কক্সবাজারকে আমরা একটি সুন্দর স্বাস্থ্যকর স্থান বলেই জানি। কিন্তু তখনকার দিনে কক্সবাজারের অবস্থাটা ছিলো অন্যরকম। কক্স সাহেব এসে দেখলেন সেখানে সাগর ভরা পানি আছে, কিন্তু পান করার উপযোগী নয়। স্থানটিও সমতল নয়। কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু।
তাছাড়া সমগ্র এলাকার আবহাওয়াটাও বন্য। জঙ্গলের মশাগুলো বড় বড়। কক্স সাহেব এ ধরনের পরিবেশে কখনও ছিলেন না। শরণার্থীদের জন্য প্রথমে তিনি খুব উত্সাহ নিয়ে কাজ শুরু করলেও পরে তিনি খুব অস্বস্তি বোধ করলেন। এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দীর্ঘদিন থাকার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তবুও তিনি শরণার্থীদের ফেলে চলে এলেন না। ক্রমে ক্রমে তার স্বাস্থ্য আরও ভেঙ্গে পড়ে এবং অবশেষে ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে কক্সবাজারেই মৃত্যু হয় তার। তার নাম অনুসারেই আজকের এ সুন্দর স্বাস্থ্যকর স্থানটির নাম হয়েছে কক্সবাজার।
