‘শাড়ি পড়েছি। পান্তা ইলিশ খেয়েছি। গালে নকশা আঁকিয়েছি। সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রায় গিয়েছি। ইচ্ছেমত সারাদিন ঘুরেছি। ফের যদি বাংলাদেশে আসি, তবে পহেলা বৈশাখের টানেই আসবো’— কথাগুলো বলেছিলেন এমি নাটলি। গতবছর তিনি এসেছিলেন ঢাকার ইউনিভার্সিটি অফ ডেভলপমেন্ট অলটারনেটিভের এক কর্মশালায় অংশ নিতে। তখনই তার সাথে কথা হয়েছিলো। তাই এবার তাকে বৈশাখী আল্পনা আঁকতে দেখে খানিকটা অবাকই হলাম। বললেন, বৈশাখের টানেই ছুটে আসলাম। শুধু এমি নয়, বৈশাখ সবার প্রাণেই দোলা দেয়।
কথা হয় ঢাকা কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী দিপুর সঙ্গে। তার মনের মানুষটা আবার পড়ছেন ইডেন কলেজে। তাই এবারের বৈশাখ ছিল তার কাছে সবচেয়ে আলাদা। আর এবারের এই বৈশাখের জন্যও নিয়েছিলেন ব্যাপক প্রস্তুতিও। সকালটা কাটিয়েছিলেন রমনায় তারপর সেখান থেকে টিএসসি ঘুরাঘুরি করে শেষ বিকালে এসেছিলেন ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে। কথা হলে দিপু জানান, এবারের বৈশাখ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ বৈশাখ গেলো। আমাদের প্রথম প্রণয়ের বৈশাখ ছিল এটি। সকালে পান্তা ইলিশ থেকে শুরু করে কিছুই বাদ রাখিনি। অনেকগুলো কনসার্টে অংশ নিয়েছি। বাচ্চাদের মত নাগরদোলায় চরলাম। আমি বেশ খুশি।
তবে দিপু আর তার বান্ধবীকে যতটা না খুশি দেখা গেলো, ঠিক ততোটাই মন খারাপ মনে হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভকে। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে শুভ বলেন, আসলে প্রতি বছরই চেষ্টা করে থাকি পহেলা বৈশাখে বাসায় থাকার জন্য। এবার যেতে পারছি না। সামনেই পরীক্ষা, তাই মন মানছে না। বাসার সবাই একসাথে বৈশাখে না থাকতে পারাটা আমার কাছে অনেক কষ্টের। তাই কিছুই করা হয়নি এবার। সারাটা দিন পড়াশুনা করেই কাটালাম। ইলিশের স্বাদও নিলাম না।
তবে শুভ পান্তা ইলিশের স্বাদ মিস করলেও মিস করেননি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সামিন আলম। সামিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বন্ধু মিলে মহাখালীতে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তাই এবারের বৈশাখের শুরুটা হয়েছিলো বাসার বুয়ার হাতের পান্তা ইলিশ দিয়ে। সব বন্ধু একসাথে পান্তা ইলিশ খাবেন বলে বেশ কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে ইলিশ আনিয়ে রেখেছিলেন সামিন।
সামিনের পুরোটা সময় আড্ডায় চলে গেলেও একা একা কেটেছে বৈশাখের পুরোটা সময় এআইইউবি’র রামিসার। রামিসা এবারই ভর্তি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। থাকেন মগবাজারে ফুপুর বাসায়। সারাদিন কারো সাথে কোথাও বের হওয়া হয়নি রামিসার। তাই বৈশাখটা তার কেটেছে আসলে টিভি দেখে আর গান শুনে। সারাদিনই মন খারাপ ছিল। রামিসা বলেন, আমি এবারই প্রথম বাসার বাইরে বৈশাখ কাটালাম। তাছাড়া এখনও এখানে খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেনি আমার সেভাবে। আমিও সেভাবে পথঘাট চিনি না। তাই আসলে বাসায় থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।
রামিসার এ বছর কিছু না করার থাকলেও প্রতি বছরই কিছু না কিছু করার চেষ্টা করে থাকেন ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কাজী আশা। প্রতি বছর এই দিনটা অন্তত তিনি চেষ্টা করেন পথশিশুদের জন্য কিছু করবার। তারই ধারাবাহিকতায় এবারো তিনি এই দিনটা কাটিয়েছেন পথশিশুদের সাথে। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছিলেন তাদের ভালো খাবার আর ভালো কিছু পোশাক কিনে দেবার। কিভাবে সম্ভব করে থাকেন এত কিছু জানতে চাইলে আশা বলেন, আমি আসলে আমার পকেট খরচ সব সময় সেভ করে রাখার চেষ্টা করে থাকি। আর বৈশাখে আমি নিজের জন্য না কিনে ওদের কিনে দেই।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদমান বলেন, এবারের বৈশাখ সবাই ঢাকায় পালন করলেও আমরা বন্ধুরা মিলে বেড়িয়ে পড়েছিলাম আমাদের প্রিয় সাইকেল নিয়ে। আমরা দলে ছিলাম ২০ জনেরও বেশি।
ছবি: তনিম। মডেল: তিশা, খালিদ, নাঈম ও সামিয়া
