পোকা-মাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে এখন আর জমিতে কীটনাশক ছিটাতে হবে না। হবে না কোনো পরিবেশদূষণ, নষ্ট হবে না মাটির উর্বরতা শক্তি। শব্দ শুনিয়ে তাড়ানো যাবে পোকা-মাকড়। এ জন্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে একটি যন্ত্র বানিয়েছেন রংপুরের একদল শিক্ষার্থী। যন্ত্রটি তৈরি করতে খরচ পড়েছে মাত্র এক হাজার ৩৭৫ টাকা। এরপর বিনা খরচে ওই যন্ত্র ব্যবহার করে বারবার পোকা-মাকড় তাড়ানো যাবে। তারা যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন ‘ডিজিটাল কীটনাশক মেশিন’।
যন্ত্রটি তৈরি করেছেন রংপুরের ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইটি) কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড মেকানিক্যাল বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের ২৬ জন শিক্ষার্থী। তারা রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ডিজিটাল মেলায় যন্ত্রটি প্রদর্শন করে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন। যন্ত্রটি দিয়ে মশা-মাছিও তাড়ানো সম্ভব। সে জন্য এর শব্দতরঙ্গে খানিকটা পরিবর্তন আনতে হবে বলে জানান এর প্রধান উদ্যোক্তা আইইটির ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র জিয়াউদ্দিন পাইলট।
যন্ত্রটি প্রস্থে দুই ফুট এবং উচ্চতায় তিন ফুট। এর চারদিকে চারটি ছোট স্পিকার আছে, যা দিয়ে চারপাশে শব্দ বের হয়। একটি ড্রাইসেল ব্যাটারি, একটি ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি), একটি সোলার প্যানেল, একটি চিপ, একটি টুইটার ও কিছু বৈদ্যুতিক তার রয়েছে।
প্রথমে ধানক্ষেতে যন্ত্রটি রাখতে হয়। এর ওপর সোলার প্যানেল বসিয়ে সূর্যের দিকে তাক করে রাখতে হবে। এরপর যন্ত্রের একটি সুইচ অন করা দরকার। ঠক করে শব্দ হবে। কাঁপুনি দিয়ে যন্ত্রটি চালু হবে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আর শব্দ বোঝা যায় না। কিন্তু যন্ত্রটি চলবে। কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখা যাবে, যন্ত্রের আশপাশের পোকা-মাকড় ছোটাছুটি করে পালাচ্ছে। যন্ত্রটির ব্যাপারে জিয়াউদ্দিন বলেন, এটি চালু করার পর এক ধরনের অডিও সিগন্যাল ও আল্ট্রাসাউন্ডের ভয়ে পোকা-মাকড় পালিয়ে যায়। এটি দূষণমুক্ত শব্দ, যা শুধু পোকা-মাকড় বুঝতে পারে।
ফসল ফলাতে জমিতে প্রতিনিয়ত রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়, যা পরিবেশ ও মানুষের শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। কীটনাশক ছাড়া পোকা-মাকড় দমনের উপায় নিয়ে এক বছর ধরে কাজ করতে থাকেন জিয়াউদ্দিন। জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘যন্ত্রটি তৈরি করতে তিন মাস সময় লেগেছে। প্রথমে এক ধরনের শব্দ সৃষ্টি করে ক্ষেতের মধ্যে প্রয়োগ করতে থাকি। এই শব্দ শোনার পর পোকা-মাকড় দূরে পালিয়ে যায়। যতদূর শব্দ যায়, ততদূর সরে যায়। ছোট্ট এই যন্ত্র চালু করলে প্রায় দেড় শতাংশ এলাকায় কোনো পোকা-মাকড় ভিড়তে পারবে না। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় যন্ত্রটি বসিয়ে চালু করে পোকা-মাকড় তাড়ানো যায়। তবে শব্দের দূরত্ব বাড়ানো যাবে। এ জন্য যন্ত্রটি বড় আকারে বানাতে হবে।’ জিয়াউদ্দিন আরও বলেন, যন্ত্রটি খুব সহজে বহনযোগ্য। একবার তৈরি করলে কয়েক বছর চালানো যাবে। এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতেও নেয়া যাবে।
