রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন পুরনোদের মিলনমেলা

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০৭
দিনটি ছিলো শুক্রবার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবন চত্বর অপরূপ সাজে সেজেছে। কারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের নতুন পুরনোদের সম্মিলন ঘটাতে এই আয়োজন। বিভাগের উদ্যোগে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ উত্সব পালন করা হয়। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। গত বছরেই উত্সবটি পালন করার ইচ্ছে থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার জন্য সেটা সম্ভব হয়নি। উত্সবটি পালনের তারিখ পিছাতেই থাকে। কিন্তু সেই মহেন্দ্রক্ষণ আর আসে না। বিভাগ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে চলে গেছে অনেক গুণীব্যক্তি। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের চাকরি জীবন শেষ করে অবসর নিয়েছেন। আবার অনেকেই চলে গেছেন না ফেরার দেশে। হয়তো তারা যদি থাকতেন তাহলে দেখে যেত চিরচেনা মতিহারের সবুজ চত্বরটি। বিভাগটির সাবেক শিক্ষার্থীরা মিলনমেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ যেমন হারাতে চাননি, তেমনি বর্তমানরাও কম না। এখান থেকে চলে যাওয়া গুণী বড় ভাইবোনদের সাহচর্য লাভ করতে তারাও স্বতস্ফুর্ত অংশ নিয়েছেন এ মিলনমেলায়। স্মৃতিময় ক্যাম্পাস, চিরচেনা কলা ভবন, সুখ-দুঃখের স্মৃতি বিজড়িত ইবলিশ চত্বর, টুকিটাকি চত্বর, প্যাারিস রোড, তুত বাগান, শহীদ মিনার, সাবাস বাংলাদেশ মাঠসহ আরো কত যে আড্ডার স্থান ছিল। সেসব জায়গাগুলোর আবার দর্শন দিতে প্রায় বারো’শ সাবেক শিক্ষার্থী আসেন মতিহারের এই সবুজ চত্বরে। এদের অনেকে আবার সহধর্মিনীকে নিয়ে আসেন শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ পার হয়ে যাওয়ার ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিময় স্থানগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। এমন একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে কাউছার আহমেদ কৌশিক নামে বিভাগের এক বর্তমান শিক্ষার্থী জানান, আমাদের এই অনুষ্ঠানটি অনেক আগেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে সম্ভব হয়নি। তারপরও দেরিতে হলেও এ বিভাগ থেকে বের হয়ে যাওয়া অনেক বড় ভাই সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে এসেছেন। তাদের কাছ থেকে অনেক দিকনির্দেশনা পেয়েছি। যা আমাদের ভবিষ্যতে অনেক কাজে লাগবে। আর এসব গুণী বড় ভাইদের সাথে সাক্ষাত্ করতে পেরে নিজেকে তিনি গর্বিত মনে করছেন বলে জানান। এ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে যান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত জায়গা থেকেই এমন মহতি কাজের প্রতি আমার আগ্রহ একটু বেশি। এজন্য চাকরি করার পরেও আমি উদযাপন কমিটিতে আছি। অনেকদিন পর একসাথে অনেক ছোট ও বড় ভাইদের সাথে দেখা হচ্ছে ভেবে আমি মানসিকভাবে খুবই উত্তেজিত। এ অনু্ষ্ঠান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে দুদিন আগেই এসেছেন উল্লেখ করে বলেন, গতদিন কয়েকটি বড় ভাইয়ের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরছিলাম। তখন সেই ক্যাম্পাস জীবনে হারানো স্মৃতিগুলো মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল। অন্যদিকে মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কৃষ্ণকলি বলেন, ক্যাম্পাসে পুরনো আপু-ভাইদের দেখে খুবই ভাল লাগছে। তাদের সাথে পরিচিত হচ্ছি আর আড্ডা খুব উপভোগ করছি। দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজন করা হয় ‘সংবিধান সংশোধন ও গণতান্ত্রিক ধারা: পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম মকসুদর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আবুল ফজল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদরউদ্দীন উমর। দ্বিতীয় দিন সকাল ৯টায় বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছাস দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের নেচে-গেয়ে উল্লাস করতে দেখা যায়। পরে বিকেলে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ও এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।