বাংলার রূপ-সৌন্দর্যের লীলানিকেতন কোনিট? হাজারো নৈসর্গিক স্থান থেকে প্রথমেই ভেসে আসে কক্সবাজারের ছবি। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্ বিচ বলে কথা! শেষ বিকেলে বিচে দাঁড়িয়ে সূয্যি মামার বিদায় লগ্ন... ওম কী অনুভূতি। বিশ্বের সর্ববৃহত্ সমুদ্র সৈকত আমার দেশে আর আমি সেই বাংলার সন্তান হয়ে দেখবো না তা কী করে হয়? সবুজে চোখ জুড়াতে আর সমুদ্র জলে অবগাহনের জন্য মাতোয়ারা হয়ে আছি সেই কবে থেকে! ছিলাম সুযোগের অপেক্ষায়।
সুযোগ এলো অবশেষে। ২৬ মার্চ। স্বাধীনতা দিবসেই পেলাম সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন আর কক্সবাজারের টান দুইয়ে মিলে সে এক অন্যরকম ব্যাপার। রাত ১১টায় যাত্রা শুরু। সবার চোখে-মুখে আনন্দের ঝিলিক। সীমাহীন উত্তেজনায় কেউ কেউ গাইতে শুরু করেছে মন খুলে। তারমধ্যে জানা গেল আজই বন্ধু ইরফানের জন্মদিন। মুহূর্তেই জমে গেল উত্সব। সকাল ১০টায় বাস যখন কক্সবাজারে ঢুকলো তখন আমাদের বিস্ময় দেখে কে? স্বপ্নের সেই প্রিয়প্রাঙ্গণে এসেছি। হুররে...। ভাল হোটেলে জায়গা করে নেয়ার চেয়ে মন পড়ে রইলো সমুদ্র পাড়ে। একটি গানের লাইন বার বার মনে পড়তে লাগলো ‘আমি আজ ভেজাবো চোখ সমুদ্র জলে’। সমুদ্র জলে চোখ নয় ভিজিয়েছি সারা অঙ্গ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকতের জলে অবগাহন যা স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন। সমুদ্র আলিঙ্গনে এতটাই উত্তেজিত ছিলাম যে, এক সময় শরীরে কাঁপুনি উঠল। তখন বুঝলাম এবার বোধহয় আর নয়! বিকেলে সদলবলে ছুটে গেলাম ইনানি বিচ ও হিমছড়িতে।
পরদিন টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ভালোবেসে নন্দিত কথা-সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এখানে নির্মাণ করেছেন ‘সমুদ্র বিলাস’ নামের আবাস। দেখলাম রুচিশীল মানুষটির অনন্য সৃষ্টি। রাতের সেন্টমার্টিন যেন স্বর্গপুরী। আকাশ ভরা তারা,উত্তাল সমুদ্রের গর্জন আর শন শন বায়ুতে হারিয়ে গেলাম অন্য এক ভুবনে। ভ্রমণের সবশেষ আকর্ষণ ছিল ছেঁড়াদ্বীপ। সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে দুলছে ছোট্ট তরী। দুলছি আমরাও। সাহসী সম্প্রদায়ের লোকদের দেখা গেল যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে দোয়া-দরূদ পড়তে! ট্রলার যখন ছোট্ট দ্বীপটিতে পৌঁছে তখন আনন্দের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। ছেঁড়াদ্বীপে পা রেখেই মনে পড়ল রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কথা। ‘তোমার যেখানে যাবার সাধ চলে যাও, আমি এ বাংলায় রয়ে যাবো’। কবির এ কথার মর্ম বুঝলাম ছেঁড়াদ্বীপ এসে। এ জন্যই বাঙালি বধূ বেহুলা স্বর্গে গিয়েও ভুলতে পারেননি বাংলার রূপ-সৌন্দর্যের কথা। ৪ দিনের ভ্রমণ শেষে মন বলে উঠে,‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি,তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর।’
