উল্টো কথন!

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২১:১৯
কেউ যদি দাঁত দিয়ে নখ কাটে কিংবা সবার সামনে বেশ উচ্চ শব্দে ঢেঁকুর তোলে তবে তার স্বাস্থ্য সচেতনতা কিংবা ভদ্রতা জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই হয়তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে সেই ছোটবেলা থেকে আমাদের পরিবার আর সামাজিক শিক্ষা এগুলোকে বদভ্যাস হিসেবেই চিনতে শিখিয়েছে। অথচ সম্প্রতি ব্রিটেনের একদল চিকিত্সাবিজ্ঞানী যা দাবি করেছেন তাতে করে এ ধরনের শিক্ষা দিয়ে আসা অভিভাবকদেরই এবার চোখ কপালে উঠবার দশা। কেননা এদের মতে, এ ধরনের অভ্যাসগুলো বাজে অভ্যাস তো নয়ই, বরং বেশ অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো! বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য রক্ষায় তথাকথিত এই বাজে অভ্যাসগুলোই বেশ কাজের বলে জানিয়েছেন এই চিকিত্সাবিজ্ঞানীরা। এ বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ব্রিটেনের বার্টস এনএইচএস ট্রাস্টের রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক পরামর্শদাতা ডা. হিলারি লংহার্স্ট বলেন, ‘কারও হাতে যদি বাড়তি কোনো ময়লা বা নোংরা না থাকে তাহলে দাঁত দিয়ে নখ কাটার সময় আমাদের শরীরে যেসব জীবাণু প্রবেশ করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বভাবতই তার বিরুদ্ধে একটু একটু করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা শিখতে থাকে। আর এভাবেই ছোটখাটো অনেক জীবাণুর বিপরীতে লড়াই করতে শেখে আমাদের শরীর।’ অন্যদিকে সশব্দে ঢেঁকুর তোলা প্রসঙ্গে ডা. হিলারির অভিমত, ‘সাধারণত আমাদের পাকস্থলীতে নানা ধরনের পরিপাক ক্রিয়ার ফলে যে গ্যাস জমা হয় সেটি বেরিয়ে আসে ঢেঁকুরের মাধ্যমে। কিন্তু কেউ যখন পরিপূর্ণভাবে ঢেঁকুর না তুলে সেটি চেপে রাখা বা আটকে রাখার চেষ্টা করেন তখন পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বুকজ্বালা ভাব দেখা দেয়।’ কাজেই ডা. হিলারির এই কথাগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের শিখিয়ে আসা ভালো-মন্দ আচরণের তালিকাতেও হয়তো পরিবর্তন হতে পারে!