যা কিছু জীর্ণ, পুরানো, অশুভ, দুঃখ-বেদনা ভুলে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন সংকল্প নিয়ে নেচে গেয়ে রং মেখে সঙসেজে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে সারাদেশে গত সোমবার বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো।
পিরোজপুর
বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পিরোজপুরে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপিত হয়। শোভাযাত্রায় ছিলেন সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল, জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, পুলিশ সুপার এস এম আক্তারুজ্জামান প্রমুখ। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা বের হয়। স্থানীয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন এ কে এম এ আউয়াল এমপি।
হবিগঞ্জ
ভোরে ঐতিহাসিক শিরীষতলায় ফুল ছিটিয়ে বছরের প্রথম সূর্যকে বরণ করে বর্ণমালা খেলাঘর আসর। এতে উপস্থিত ছিলেন এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির, এমপি কেয়া চৌধুরী, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া শহরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আবহমান বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে।
মাদারীপুর
সকালে স্বাধীনতা অঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক জিএসএম জাফরউল্লাহ। শিল্পকলা একাডেমী, পুলিশ সাংস্কৃতিক দল, উদীচী, মাত্রা, রবীন্দ্র, সম্মিলন পরিষদ, উদ্ভাসসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও নার্সিং ইনস্টিটিউশন দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জেলা প্রশাসকের বাস ভবন আঙ্গিনায় পান্তা-ইলিশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কুড়িগ্রাম
আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে গরু ও ঘোড়ার গাড়ি, স্বাধীনতা যুদ্ধের ভাস্কর্যসহ রঙ-বেরঙের প্লাকার্ড সজ্জিত হয়ে খণ্ড খণ্ড বিশাল শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নববর্ষের দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন।
নীলফামারী
সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন, সংস্থা, স্কুল-কলেজ-ক্লাব বর্ষবরণে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করে। হাতির বেশে, বাঘ, টোপর মাথায় বর-ঘোমটা মাথায় বধূবেশে, কেউবা ঘটক, কেউবা ঢুলি, কেউবা সেজেছিল কামার-কুমার-জেলে বাংলা বর্ষবরণে মেতে উঠেছিল নীলফামারী।
রাজবাড়ী
শত বছরের পুরানো এই চড়ক পূজার আয়োজন করেছিল গোয়ালন্দ উপজেলার কাটাখালী গ্রামের প্রেম চরণ ফকির। তার মৃত্যুর পর থেকে পরবর্তী প্রজন্ম বাড়ির পাশেই আঙ্গিনা প্রাঙ্গণে বিশাল এক চড়কি বানিয়ে দু’জনের পিঠে বরশি গেঁথে ঝুলিয়ে ঘোরানো হয়। এর ফাঁকে চলে পূজাসহ নানা আয়োজন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রতিবছরই এই পূজা দেখতে ছুটে আসে হাজার হাজার নারী-পুরুষ।
নেত্রকোনা
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোক্তারপাড়ার মাঠে বর্ষবরণ সঙ্গীতানুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা এবং সন্ধ্যায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নেত্রকোনা সরকারি কলেজে, চন্দ্রনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও অনুরূপ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলী আশরাফ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কুন্ডুগোপী দাস, রেজিস্ট্রার মো. মুজিবুর রহমান, প্রক্টর মো. আইনুল হক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, কমকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ।
ফরিদপুর
শহরের স্বাধীনতা চত্বরের উন্মুক্ত মঞ্চে ফরিদপুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোর্শেদ জামান প্রমুখ। এছাড়াও শহরের অম্বিকা ময়দানে, কবি জসীম উদদীন হল, শেখ রাসেল শিশু পার্কে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শহরের কোর্ট প্রাঙ্গণে বসেছে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা।
নড়াইল
জেলা প্রশাসন এবং বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদ ২০১৪ এর আয়োজনে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সুলতান মঞ্চ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, আনন্দ শোভাযাত্রা, পান্তা ইলিশ, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যানুষ্ঠান, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক আ. গাফফার খান, পুলিশ সুপার মো. মনির হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাট
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে সকালে লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে লালমনিরহাট মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, বর্ষবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বাগেরহাট
বাগেরহাটে ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ডা. মোজাম্মেল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মত্স্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হ্যাপী বড়াল, জেলা প্রশাসক মু. শুকুর আলী, পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্লা প্রমুখ।
শেরপুর
জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। সদর আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আতিউর রহমান আতিকের নেতৃত্বে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।
শরীয়তপুর
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের কর্মসূচি শুরু হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শরীয়তপুর সদর উপজেলা মিলনায়তনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আসিব আহসানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন শরীয়তপুরের পৌর মেয়র আবদুর রব মুন্সি, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে।
ময়মনসিংহ
বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বৈশাখী র্যালির উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী ও বর্ষবরণ উত্সব উদযাপন কমিটির আহবায়ক আমির আহাম্মদ চৌধুরী শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। জেলার ৪২টি সংগঠন এতে অংশগ্রহণ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের টেংকের পাড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমী সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী উত্সব শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত চত্বরে শুরু হয়েছে।
নওগাঁ
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব শহীদুজ্জামান সরকার এমপি, মো. আব্দুল মালেক এমপি, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট একেএম ফজলে রাব্বি বকু, জেলা প্রশাসক এনামুল হক, পুলিশ সুপার কাইয়ুমুজ্জামান খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।
বান্দরবান
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজারমাঠ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি’র নেতৃত্বে বাংলা নববর্ষ বরণের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে পাহাড়ী বান্দরবানে বসবাসরত পাহাড়ী-বাঙালিসহ ১৪টি জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর এবং নারী-পুরুষেরা নিজস্ব পোশাকে ভিন্ন ভিন্ন সাঁজে অংশ নিয়েছেন। এ সময় বান্দরবান ৬৯ সেনা রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, পৌর মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জয়পুরহাট
জয়পুরহাটে জাগ্রত ও নির্ভয় হওয়ার শপথ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা শহীদ আবুল কাশেম ময়দান হতে জেলা প্রশাসক চত্বরে শেষ হয়। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের দিনটিতে রঙ-বেরঙের মুখোশ, শোলার পাখি, পেঁচা, প্রজাপতি, খরগোশ ও টেপা পুতুল, ঢাক-ঢোল বাঁশি, লাঠি-বর্শা, তীর-ধনুক নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয় যাত্রীরা। জেলা প্রশাসক চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা
জেলা প্রশাসক দেলওয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা শিশু একাডেমী ছোট শিশুদের জন্য ছবি অংকন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন আলোচনা সভার আয়োজন করে। জাতীয় সংসদের হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।
মৌলভীবাজার
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, খাবার পরিবেশন, আলোচনা সভা, কারাগার, হাসপাতালে উন্নত খাবার পরিবেশনের মধ্যদিয়ে মৌলভীবাজারে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী পাবলিক লাইব্রেরি, ইসলামী ফাউন্ডেশন, হামদর্দসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা রঙ-বেরঙের পোশাক পরে বর্ণিল সাজে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার তোফায়েল আহাম্মদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আজিজুর রহমান প্রমুখ। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীরা মনোজ্ঞ সঙ্গিত পরিবেশন করে।
নোয়াখালী
পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বৈশাখী মেলা উদ্যাপন কমিটি জেলা মাইজদীতে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে। জেলা প্রশাসন শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে এবং বৈশাখী মেলা উদযাপন কমিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পান্তা-ইলিশ উত্সব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরিফ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন, মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোহাম্মদ শাহজাহান ও জিপি মানছুরুল হক খসরু প্রমুখ। অপরদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপিত হয়েছে।
কাউখালী (পিরোজপুর)
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়। দিনব্যাপী অন্যান্য অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সংগীত পরিবেশন, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গ্রামীণ খেলা, গম্ভীরা ইত্যাদি। নববর্ষ ১৪২১ উপলক্ষে হাসপাতাল, এতিমখানায় সকাল থেকে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর)
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসনেরর উদ্যোগে মজিদা বেগম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বন্দর সরকারি মজিদা বেগম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়, থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য খচিত প্লাকার্ড ও এসো হে বৈশাখ এ সুরধ্বনিতে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, ওসি মতিউর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক মটু হাওলাদার, যুগ্ম আহবায়ক ফাইজুর রশিদ খসরু, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শফিক মন্নান ও ছাত্রলীগের সভাপতি এহসাম হাওলাদার প্রমুখ।
লাকসাম (কুমিল্লা)
লাকসামে বর্ণাঢ্য র্যালি, উন্নতমানের খাবার, বিস্কুট দৌড়, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক ও বর্ষবরণের গানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মেতে উঠে জসিম ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত পথশিশুদের স্কুলের প্রায় ৬০ জন পথকলি। অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয়ার্ধে অভিভাবক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানমালা তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক জসিম উদ্দিন।
বেলাব (নরসিংদী)
স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে উপজেলা প্রশাসন, বেলাব উপজেলা প্রেসক্লাব বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা মিলনায়তনে নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়ার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রামগড় (খাগড়াছড়ি)
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃত্ববৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ছাড়াও ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে র্যালিতে অংশ নেন
বেনাপোল (যশোর)
বন্দরনগরী বেনাপোলে পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রং-বেরং এর ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড, মুখোশ, বাঁশি, ক্যাপ নানা রংয়ের বৈশাখী শাড়ি পড়ে, শিশু-কিশোরীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মনজু। নাভারন ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজে শার্শার সকল স্কুল কলেজের প্রায় ৫ হাজার ছাত্রীকে পান্তা ইলিশ খাওয়ার আয়াজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-১ শার্শা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
নববর্ষ উপলক্ষে শাহজাদপুর অফিসার্স ক্লাব ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপনের রূপপুরের বাড়িতে এক পান্তা ইলিশের আয়োজন করা হয়। হাই স্কুল মাঠে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। নববর্ষ উপলক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ও উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মেদ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এলিজা খান ঘোড়ার গাড়ীতে চড়ে বর্ণাঢ্য র্যালিতে উপজেলা শহর প্রদক্ষিণ করেন।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও)
উপজেলা প্রশাসন,পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বণিক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বেসরকারি সংস্থা ইএসডিও, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ র্যালীতে অংশ গ্রহণ করে। এদিকে ‘পীরগঞ্জ পাঠচক্র’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ৫ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা)
পান্তা-ইলিশ, হালখাতা খোলা, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে দাউদকান্দি, মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়
হোমনা (কুমিল্লা)
হোমনা সরকারি হাই স্কুল, খাদিজা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। বর্ষ বরণ উপলক্ষে হোমনা কফিল উদ্দিন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক উত্পল কুমার ভৌমিক প্রমুখ। এছাড়া, দিনাজপুরের ফুলবাড়ি, বগুড়ার কাহালু, নওগাঁর মান্দা, নীলফামারীর ডিমলা, সৈয়দপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, রাজশাহীর বাঘা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, ঈশ্বরগঞ্জ, সাতক্ষীরায় তালা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, পাবনার চাটমোহর, ফরিদপুর, বগুড়ার আদমদীঘি, খুলনার বটিয়াঘাটা, দিনাজপুরের কাহারোল, ফরিদপুরের সদরপুর, চরভদ্রাসন, কক্সবাজারের মহেশখালী, ভোলার মনপুরা, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর, কুলিয়ারচর, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, জামালপুরের, সরিষাবাড়ী, নাটোরের সিংড়া, চাঁদপুরের কচুয়া, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, ঝালকাঠির কাঠালিয়া, হবিগঞ্জের বাহুবল, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের অনুরূপ কর্মসূচি উদযাপিত হয়।
