বান্দরবানে মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক অনুষ্ঠান সাতদিনব্যাপী সাংগ্রাই উত্সবের তৃতীয়দিন ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এদিন পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ এবং সদর উপজেলার রেইছা থলিপাড়া মাঠে উত্সবের মূল আকর্ষণ- জলকেলী বা মৈত্রী পানি বর্ষণে মেতে ওঠে মারমা তরুণ-তরুণীরা। ছোট-বড় কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে তরুণ-তরুণীরা পানি খেলায় অংশ নেয়। এই জলকেলী বা পানি খেলায় বিবাহিতরা অংশ নিতে পারে না। মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে ভাবের আদান প্রদানের মাধ্যমে সম্পর্কের সেতু বন্ধন তৈরি করে পরবর্তী সময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। জলকেলী উত্সব দেখতে শত শত পাহাড়ি-বাঙালি নারী-পুরুষ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও ভিড় জমিয়েছেন পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে। জলকেলী ছাড়াও সেখানে পাহাড়িদের আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হচ্ছে।
এদিকে সাংগ্রাই উত্সবকে ঘিরে পিঠা তৈরির ধুম পড়েছে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে। মঙ্গলবার শহরের উজানীপাড়া, জাদীপাড়া এবং টাউনহল পাড়ায় সাড়িবদ্ধভাবে বসে তরুণ-তরুণী এবং শিশু-কিশোরেরা দুদিনব্যাপী হরেক রকমের পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতায় নামে। সারা রাত পিঠা তৈরি করে পাড়া-প্রতিবেশীদের বিতরণ করা হয়।
আজ বুধবার সদর উপজেলার রেইছা থলিপাতা, পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা হাইস্কুল মাঠে জলকেলী উত্সব হবে। থাকবে পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। সাংগ্রাই উত্সব চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
আয়োজকরা জানায়, পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণের এই উত্সবকে পাহাড়িরা প্রধান সামাজিক উত্সব হিসেবে পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। সকল পাপাচার ও গ্লানি ধুয়ে মুছে নিতে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উত্সবকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা মারমা ভাষায় সাংগ্রাই, ত্রিপুরা ভাষায় বৈসকু, তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বিসু এবং চাকমা ভাষায় বিজু, ম্রো ভাষায় চাংক্রান, চাক ও খেয়াং ভাষায় সাংগ্রান এবং খুমী ভাষায় সাংগ্রায় উত্সব নামে পালন করে আসছে। এই উত্সবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী বছরের শেষ তিনদিন এবং নতুন বছরের প্রথম তিনদিন বৈচিত্রময় নানা অনুষ্ঠানে মেতে থাকে।
