আগামীকাল মুজিবনগর দিবস। এ উপলক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূতিকাগার অস্থায়ী রাজধানী মেহেরপুরের মুজিবনগর কমপ্লেক্স এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ নতুনরূপে সাজানো হচ্ছে। বিশাল আম্রকাননের ১৩৫০টি গাছের গোড়ায় সাদা রং করা হয়েছে। রং করা হয়েছে কমপ্লেক্স ঘিরে থাকা প্রাচীরও। স্মৃতি সৌধের ২৩টি স্তম্ভ ঘষে-মেজে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। মেহেরপুর-মুজিবনগর ৯ কিলোমিটার প্রধান সড়ক ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কাজ চলছে।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর আম্রকাননে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম মন্ত্রীপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মেহেরপুরের তত্কালীন এসডিও তৌফিক-এলাহীর নেতৃত্বে জাতীয় ৪ নেতা অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, কামরুজ্জামান ও মোস্তাক আহম্মেদকে গার্ড অব অডার প্রদান করা হয়। গার্ড অব অনার প্রদানকারী মুজিবনগর ভবেরপাড়া গ্রামের ১২ আনসার-মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪ জন জীবিত আছেন। এরা হলেন— আজিমদ্দিন (৭৫), সিরাজুল ইসলাম (৬৭), লিয়াকত আলী ( ৬৫) ও হামিদুল ইসলাম (৬৬)। বাকি যে আটজন মারা গেছে তারা হলেন— অস্থির আলী, নজরুল ইসলাম, মফিজ উদ্দিন, কেসমত আলী, মহিম উদ্দিন ও ফকির মহাম্মদ, সাহেব আলী ও ইরাদ আলী। মৃত ৮ জনের স্মরণে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ২ দিনব্যাপি অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। মুজিবনগরে শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। সভাপতিত্ব করবেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সিমিন হোসেন রিমি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, মেহেরপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন ও সাবেক এসডিপিও মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে কর্মসূচির মধ্যে থাকছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ, ১১টা ১৫ মিনিটে প্রধান অতিথি কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি কর্তৃক গার্ড অব অনার প্রদান, সাড়ে ১১টার দিকে শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেলা উদ্বোধন। ১৮ এপ্রিল মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানসমূহের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, বিকাল ৫টার দিকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
