পহেলা বৈশাখে সম্প্রীতির সুর বেজে ওঠে বাঙালির প্রাণে। ঘর ছেড়ে পথে নেমে আসে সবাই। প্রকৃতি জুড়ে গাছে গাছে যেমন নতুন পাতার উচ্ছ্বাস তেমনি মানুষের মনেও শুভতার প্রত্যাশা মোড়ানো নতুন দিনের হাতছানি। সেই সুন্দর দিনের প্রত্যাশায় লাল-সাদা পোশাকে উচ্ছ্বল আনন্দে মেতে দেশবাসী বরণ করলো নতুন বছরকে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী-পেশা ও বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সোমবার পহেলা বৈশাখে সবাই একাত্ম হয়ে বরণ করে নিল ১৪২১ সালকে।
সড়ক জুড়ে মানুষের মিছিল। মাথার ওপর খররোদ কিন্তু পথে পথে মানুষের আনন্দ-মিছিল। দিনভর ক্লান্তিহীন উচ্ছ্বাসে উদযাপন করেছে নতুন বছরের এই প্রথম দিনটিকে। শহর জুড়ে বসেছিল মেলা। পথের পাশে হাজারো লোকজ জিনিসের পসরা। মেলার প্রাণ বাঁশি, ঢোল, একতারা তো আছেই। ঘুরতে আসা প্রত্যেকের হাতেই কিছু না কিছু বেজে চলছে। ঘর সাজানোর পণ্য থেকে শুরু করে আসবাবপত্রও আছে এসব দোকানে। মানুষের ভিড় ঠেলে, গরমে-ঘামে একাকার ফেরিওয়ালার চোখে-মুখেও খুশির ঝিলিক।
রাজধানীর যে জায়গাটিতে একটু ছায়া আছে, সেখানেই বসে গেছে গানের মেলা। প্রাণের মেলা। সাংস্কৃতিক, সামাজিক, নাগরিক ও পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সবাই আজ ছোট বড় আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বৈশাখকে বরণ করে নিয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন পরিসরে হলেও এই আয়োজনের লক্ষ্য সবারই এক। সবাই চায় একটি শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ।
রাজধানীতে ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই বর্ষবরণ উত্সবে মেতে ওঠে মানুষ। রমনার অশ্বত্থমূলে ছায়ানটের বর্ণিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠান দিয়েই শুরু হয় উত্সব। ‘জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে’ স্লোগান বুকে ধারণ করে নব-প্রভাতের সূর্যের আলোর ছটায় রাজধানীবাসীর বর্ষবরণের অন্যতম অনুষঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে। বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। রাজধানীজুড়ে ছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা।
সকালে রমনা পার্কে ঢোকার মুখে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তা তল্লাশির পাশাপাশি মিষ্টি, ফুল, পাখা ও মাথার টুপি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান দর্শনার্থীদের। এ উদ্যোগ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বহু সংগঠন বর্ষবরণ উত্সবে মাতোয়ারা হয়েছিল দিনভর। সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয়েছে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো...’গানটি। দিনভর দেশীয় বাদ্যযন্ত্রে নগরবাসী মেতে ওঠে বর্ষবরণের বাঙ্ময় উত্সবে। মানুষ হারিয়ে যায় কথা, কবিতা ও সুরের ছন্দে। উত্সবের প্রাণকেন্দ রমনা পার্ক ও এর আশপাশের এলাকাসহ পুরো ঢাকা শহরেই নামে মানুষের ঢল। মধ্যরাত পর্যন্ত লাখো মানুষের এ ঢল ছিল বহমান। উত্সবে আসা মেয়েদের বসনে ছিল লাল-সাদা বর্ণিল শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া আর খোঁপায় ফুল। ছেলেরা পরেছিলেন লাল-সাদা পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও টি-শার্ট। শিশুরাও কম যায়নি। ঠোঁটে লিপস্টিক, কপালে টিপ, পায়ে আলতা, শাড়ি, ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ পরে মেতে উঠেছিল বৈশাখী আনন্দে।
গ্রামাঞ্চলের মানুষদের আয়োজনেও কোনো কমতি ছিল না। অতিথি আপ্যায়নের জন্য মুড়ি, মুড়কি, মিষ্টি, পিঠা, পায়েস তো তৈরি করেছিলেনই, অবস্থাসম্পন্ন গৃহস্থের বাড়ির আঙিনায় বসেছিল পালা, জারি, সারি, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, মারফতি গানের আসর। গ্রামগঞ্জে, স্কুলের মাঠে বা খোলা জায়গায় বসে বৈশাখী মেলা। ব্যবসায়ীরাও খুলেছেন হালখাতা।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চারুকলা, টিএসসি, কেন্দ ীয় শহীদ মিনার, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, ধানমন্ডির রবীন্দ সরোবরে নানা সাংস্কৃতিক সংগঠনের গানের আসর ও বৈশাখী মেলার পাশাপাশি শহরজুড়ে ছিল নানা অনুষ্ঠান। উত্সবে অংশ নিতে আসেন বিদেশিরাও। উপভোগ করেন বাঙালির প্রাণের উত্সব। নববর্ষের প্রথম দিন ছিল সরকারি ছুটি। পত্র-পত্রিকাগুলো নববর্ষ উপলক্ষে বের করে বিশেষ সংখ্যা। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন ও এফএম রেডিও স্টেশন সমপ্রচার করে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
ছায়ানট
পহেলা বৈশাখে ‘স্বদেশ ও সমপ্রীতি’র ভাবনা নিয়ে রমনার বটমূলে ছায়ানট সকাল সাড়ে ছয়টায় আয়োজন করে বর্ষবরণ উত্সব। নীল-সাদা শাড়িতে, কাঁচা ফুলের সৌরভে সঙ্গীত ও আবৃত্তি পরিবেশনার মধ্যেদিয়ে তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়ে ওঠে রমনার বটমূল। ছায়ানটের সভাপতি ড. সনিজদা খাতুন বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে দেশবাসীকে সকল বিভেদ ভুলে শান্তি ও সমপ্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দেশাত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, যথার্থ শিক্ষার অভাবে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ বেড়ে চলেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে কুশিক্ষা বাড়ছে। স্বাধীনতাবিরোধীরা সম্পদশালী হয়ে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে। কিন্তু ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা হানাহানি নয়, মানুষে মানুষে মিলন। মানুষে মানুষে মিলনে সম্প্রীতির যে বন্ধন-তা মানুষকে বোঝানোর দায়িত্ব আমাদের। উগ্র ধর্মাচ্ছন্নতা মানুষের বিচারবুদ্ধি আচ্ছন্ন করে ফেলে। সব কিছু ঠেলে মানুষ ক্ষমতায় বসতে চায়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রাজরূপা চৌধুরীর সরোদ বাদনের মধ্যদিয়ে। তিনি সরোদে ‘রাগ আহীর ভৈরব’ পরিবেশন করে নতুন বর্ষকে বরণ করে নিতে মানুষকে আহবান জানান। এরপর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’। পরে একক কণ্ঠে ইফফাত আরা দেওয়ান গাইলেন ‘সবারে বাস রে ভালো’। মিতা হক গাইলেন ‘জাগ আলসশয়নবিলগ্ন’। খায়রুল আনাম শাকিল গাইলেন ‘ক্ষমা করো হজরত’, সত্যম দেবনাথ শোনান ‘অন্ধজনে দেহ আলো’। এরপর ফেরদৌস আরা খানম আবৃত্তি করেন ‘রামু ২০১২ : বৌদ্ধবিহার পুড়িয়ে দেবার পর’। এরপর ছোটদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘এ পথ গেছে কোনখানে গো’ গানটি। এরপর তিনটি একক পরিবেশিত হয়। একক আবৃত্তি মাহিদুল ইসলাম পরিবেশন করেন ‘মাতৃভূমির জন্য’।
৮টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ প্রভাতীয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সূচনা বর্ষবরণ আয়োজন নিয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিজন ড. সারওয়ার আলী।
সুরের ধারা ও চ্যানেল আই
সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারা এবং চ্যানেল আইয়ের যৌথ আয়োজনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ‘লাক্স হাজারো কণ্ঠে বর্ষবরণ’। এতে অংশ নেন সুরের ধারার শিল্পী ও শিক্ষার্থীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণ পরিণত হয় দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্বদের মিলনমেলায়। চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী ফরিদুর রেজা সাগর, সুরের ধারার সভাপতি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সুবীর নন্দীসহ দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা এ অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
সমবেত সঙ্গীতের পাশাপাশি ছিল একক গানের পরিবেশনা। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুবীর নন্দী, রফিকুল আলম, ফাহমিদা নবী, সুজিত মোস্তফা, লিলি ইসলাম, নাশিদ কামাল, শাহনাজ নাসরিন ইলা, চম্পা বণিক প্রমুখ। এর আগে বৈশাখী কথনে অংশ নেন সুরের ধারার সভাপতি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। বাংলা বর্ষবরণ উত্সবকে আরও রঙিন করতে উত্সব প্রাঙ্গণে বসেছিল কারুশিল্প মেলা। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লি.-এর পাক্ষিক বিনোদন ম্যাগাজিন আনন্দ আলো’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে উদযাপন করেন ফরিদুর রেজা সাগর, আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান ও এলআরবির আইয়ুব বাচ্চু।
দর্শকসারিতে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল বাকের, চ্যানেল আয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক জহিরউদ্দিন মাহমুদ মামুন, ইনসেপ্টার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুক্তাদির, পরিচালক হাসনিন মুক্তাদির প্রমুখ।
ঋষিজ
সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শাহবাগে শিশু পার্কের সামনে নারকেল বীথি চত্বরে আয়োজন করে বৈশাখ বরণ উত্সব। ফকির আলমগীরের নেতৃত্বে ঋষিজের শিল্পীরা এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
কেন্দ ীয় কচি-কাঁচার মেলা
আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের আঁকা ছবি প্রদর্শনী ও পিঠা মেলার আয়োজন করে কচি-কাঁচার মেলা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কে. এম. নূর-উন-নবী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডি.ডি. ঘোষাল, রাশেদুল হাসান জুনায়েদ ও শিশুবক্তা নুহা। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ ীয় মেলার সভাপতি খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। কথাবিতান, সুরবিতান ও নৃত্যবিতানের ভাইবোনেরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
শিল্পকলা একাডেমি
একাডেমির মুক্তমঞ্চে ছিল সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ, বাউল গানের আসর। দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি সঙ্গীত দল। একক আবৃত্তি করেন হাসান ইমাম, কৃষ্টি হেফাজ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও ডালিয়া আহমেদ। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে ধৃতি নৃত্যনালয়। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন অনিমা মুক্তি গোমেজ, আমজাদ দেওয়ান, বিশ্বেষ চীরাং, বেবী আক্তার, সুভাষ শর্মা, রহিমা খাতুন, এম এ মোমিন, আমির আলী বয়াতী, রীনা আমিন ও মনজিলা দেওয়ান। পুঁথিপাঠ করেন মুন্সিগঞ্জের শিশির রহমান।
বেঙ্গল শিল্পালয়
উত্সবের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকালের পর্ব শুরু হয় লিটনের দলের ঢাকঢোল বাদনের মাধ্যমে। এরপর লোকগান পরিবেশন করেন সফিউল আলম রাজা, হালিমা পারভীন, সিদ্দিকুর রহমান এবং ভজন বাউল। সন্ধ্যার পর্বের শুরুতেই শিল্পী মুর্তজা কবির মুরাদ বাঁশিতে রাগ ইমন এবং ধুন বাজিয়ে শোনান। রাগপ্রধান গানের দলীয় পরিবেশনায় ছিলেন শিল্পী শর্মিলা মজুমদার, বর্ষা মজুমদার, সুপ্রিয়া দাশ এবং প্রিয়াঙ্কা দাস। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন নাহিদ সুলতানা এবং ঝুমা খন্দকার। পঞ্চকবির গান পরিবেশন করেন শারমিন সাথী ইসলাম, লাইসা আহমদ লিসা, সুমন চৌধুরী, খায়রুল আনাম শাকিল, বুলবুল ইসলাম এবং শামা রহমান। উত্সবের সমাপনী দিন গতকাল মঙ্গলবার সেতার পরিবেশন করেন ফিরোজ খান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন হাসান আরিফ। রবীন্দ নাথ, তিন কবি ও পুরনো বাংলা গান পরিবেশন করে অদিতি মহসিন, মিতা হক, সাদী মহম্মদ, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও ইফ্ফাত আরা দেওয়ান। লালনের গান পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন।
সারগাম ললিতকলা একাডেমি
সকালে ধানমন্ডি লেকের পাশে ‘এসো হে বৈশাখ’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বর্ষবরণ উত্সব উদযাপন করে। এছাড়া শিশু-কিশোরদের ‘বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সাজো’ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সঙ্গীত পরিচালনা করেন একাডেমির পরিচালক শাহীন সরদার।
জাতীয় প্রেস ক্লাব
প্রাঙ্গণে ক্লাবের পক্ষ থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল আপ্যায়ন, বায়োস্কোপ প্রদর্শনী ও সাপ খেলা। বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ। এ সময় ক্লাবে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ ছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিআরইউ
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাঙালি খাবারে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সদস্যদের উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। একক আবৃত্তি করেন হাসান আরিফ। সঙ্গীত পরিবেশন ও শিল্পকলা একাডেমির অ্যাক্রোবেটিক দলের বর্ণাঢ্য অ্যাক্রোবেটিক শো’র আয়োজন করা হয়।
অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়
বর্ষবরণ ও বৈশাখী উত্সব পালন করেছে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান শুরু হয় বনানীস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসে। বৈশাখী শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পিঠা উত্সব, পান্তা ইলিশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন ছিল বনানী, উত্তরা, পল্টন ও পান্থপথের ইউনিটেও। প্রধান ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আনোয়ারা বেগম।
ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর মঞ্চ থেকে সুধা সদন দ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করে বর্ষবরণ উত্সব। রবীন্দ্র সরোবরের মূল মঞ্চে ধানমন্ডি রিক্রিয়েশন ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপি সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও নাগরিক সংগঠন ‘স্বজন’ আয়োজন করে সঙ্গীত ও কৌতুক অনুষ্ঠানের। বিশেষ ভোজের ও আয়োজন করে তারা। সুধাসদন দ্বীপে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ ভোজের আয়োজন করে নাগরিক সংগঠন ‘বটছায়’ এবং ‘আপনজন’।
এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, শান্ত-মারিয়ম ফাউন্ডেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষকে বরণ করেছে। সোনারগাঁও রূপসী বাংলা, র্যাডিসন, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সি, সারিনা, পূর্বাণী, গ্র্যান্ড আজাদ, সুন্দরবন, ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, খাজানা রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন অভিজাত হোটেল, ক্লাব ও রেস্তোরাঁয় ছিল পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য আয়োজন। এদিকে, এলিট কসমেটিক্স রাজধানীসহ জেলা শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
