সাঈদীর আপিল শুনানি শেষ

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৮
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল মঙ্গলবার আপিলের ওপর উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। তবে কবে রায় ঘোষণা করা হবে আজ এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে। এদিকে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা মামলার নথি তলবের বিষয়ে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক দুটি আবেদনের ওপর আজ বুধবার আদেশ দেবে আপিল বিভাগ। ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার বিচার চেয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে পিরোজপুরে যে মামলা করেছিলেন সেই মামলার চার্জশিট জমা দিয়েছে আসামি পক্ষ। মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিট বিবেচনায় নেয়া এবং পিরোজপুর থেকে ওই মামলার জিআর বই তলবের আবেদন করেন আসামি পক্ষ। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ১৯৭২ সালে দালাল আইনে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার বই (নথি) তলবের আবেদন করেছেন। আসামি পক্ষের দাবি, এ ঘটনায় ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী ১৯৭২ সালে পিরোজপুর থানায় যে মামলা দায়ের করেছিলেন সেখানে সাঈদীকে আসামি করা হয়নি। এ মামলার চার্জশিটেও তার নাম নেই। এ মামলার এজাহার এবং চার্জশিটের ফটোকপিও আদালতে দাখিল করে আসামিপক্ষ। তবে দাখিল করা এজাহার ও চার্জশীটের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই বলে দাবি করেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, যে এজাহার ও চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে তা জাল ও ভুয়া। এসব প্রশ্নের জবাবে সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন শুনানিতে বলেন, আপনারা (আদালত) মামলার রেকর্ড তলব করেন। রেকর্ড তলব করলেই বুঝা যাবে কোন্ এজাহার ও চার্জশীট হয়েছিল কি না? খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল একটি পক্ষপাতমূলক আদালত। সাঈদীর মামলাটিকে ঐতিহাসিক মামলা উল্লেখ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে তিনি ন্যায় বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ৪০ বছর পরে শুরু হওয়া এ মামলা একদিন দেশে ইতিহাস হয়ে থাকবে। অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে মাওলানা সাঈদীকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তি দাবি করেন। অপরদিকে সাঈদীকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আবেদন জানান এটর্নি জেনারেল। মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসি দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ২০টি অভিযোগের মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টি ও বিশাবালীকে হত্যা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার দুটি অভিযোগে সাঈদীকে এ দণ্ড দেয়া হয়। তবে আরো ছয়টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও এগুলোতে কোন দণ্ড দেয়নি ট্রাইব্যুনাল। এই প্রমাণিত অভিযোগগুলোতে দণ্ড দেয়ার আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় বাতিল চেয়ে আপিল করেন সাঈদী। গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।