দুদকের অনুসন্ধানে অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং কয়েকজন এমপি দুদকের কাছে দাবি করেছেন তাদের হলফনামায় দেয়া তথ্যে ভুল ছিল। অভিযোগ উঠেছে ফের সম্পত্তির আলাদা হিসাব প্রদান করে তারা রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এ ব্যাপারে দুদকের সাফ কথা নির্বাচনী হলফনামায় দেয়া সম্পত্তির তথ্যকে এভিডেন্স হিসেবে গ্রহণ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর এসব এভিডেন্সকে আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কেউ কেউ হলফনামায় ভুল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। তাদের এ বক্তব্য গ্রহণ করা হবে না। এভিডেন্স অ্যাক্ট অনুযায়ী, হলফ করে হলফনামায় যে তথ্য উল্লেখ করা হয়, সেটাই সত্য বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। আইন অনুযায়ী এর বাইরে কিছু করার নেই দুদকের।
দুদক সূত্র আরো জানায়, তিন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তিন এমপির অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই মন্ত্রী-এমপিরা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তা যাচাইকালে তাদের সম্পদের অসংগতির তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত এ ছয় জনের হলফনামায় সম্পদের রহস্যজনক বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে নিযুক্ত ছয় অনুসন্ধান কর্মকর্তা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব নির্ণয় করেছেন। প্রাথমিক পর্যায়ের অনুসন্ধানেই তাদের নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া যায়। এদিকে কমিশন এ ছয় জনের কাছে ফের হিসাব চাইলে পরে ছয় জনই সম্পদের হিসাব জমা দেন। সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের পরও বহু সম্পদের বৈধ উত্স খুঁজে পাওয়া যায়নি।
