সফল জুটির গল্প

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৫৯
টেলিভিশনের স্বর্ণযুগ সত্তর ও আশির দশকে জুটির নাম শুনে তারপর টিভি সেটের সামনে বসতেন দর্শক। ওই সময় টিভিতে আফজাল-সুবর্ণা জুটির নাটক প্রচার মানেই ছিল মহানন্দের ব্যাপার। শুধু রোমান্টিক জুটি নয়, ঘরোয়া কাহিনীর নাটকেও তখন অনেক জুটি তৈরি হয়েছিল। আবদুল্লাহ আল মামুন-ফেরদৌসী মজুমদারের মতো জুটির বহু কাজ দশর্কের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। সম্প্রতি এই সময়ের ব্যস্ততম অভিনেত্রী শখ ও অভিনেতা নিশো জুটি হয়ে নতুন একটি নাটকে অভিনয় করলেন। এই জুটির অভিনয়ের রসায়ন নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত জুটি প্রথা টিভি নাটকে তার দাপট ষোলোআনা প্রদর্শন করতে সমর্থ হয়। জাহিদ হাসান-শমী কায়সার, টনি ডায়েস-আফসানা মিমি, তৌকীর আহমেদ-বিপাশা হায়াত জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল এসব জুটি। নব্বইয়ের শেষে এসেও মাহফুজ-তারিন জুটি নিয়ে বেশ মাতামাতি ছিল। কিন্তু তারপরই ধীরে ধীরে ছোট পর্দায় জুটি প্রথা ফিকে হতে থাকে। সেই সাথে বেশি সংখ্যক দেশি স্যাটেলাইট চ্যানেলের আত্মপ্রকাশের ফলে নাটক তখন নির্মিত হতে থাকে সংখ্যাতত্ত্বকে সামনে রেখে। তাই শিল্পী সঙ্কট জুটি প্রথাকে ভেঙেচুরে একাকার করে দেয়। নামী দুজন তারকাকে এক ফ্রেমে বন্দি করার নামই তখন হয়ে দাঁড়ায় ‘জুটি’। জুটির চেয়ে নাটকের দর্শকপ্রিয়তার দিকেই এখন বেশি মনোযোগ নির্মাতাদের। কোনো এক শিল্পী কমেডি নাটক নির্মাণ করে জনপ্রিয়তা পেলেন তো সব নির্মাতা ঝাঁপিয়ে পড়লেন তাকে নিয়ে। এবার এই কমেডি অভিনেতাকে শুধু পর্দায় দেখালে দর্শক ভুলবে না। স্পন্সরদেরও খুশি করা যাবে না। অতএব কমেডি অভিনেতার বিপরীতে কাস্ট কর জনপ্রিয় মডেল অভিনেত্রীদের। জন্ম হলো নতুন ধারার এক জুটির। হালে নির্মাতারা এমন অসম জুটি নিয়ে নাটক বানাতেই বেশি আগ্রহী। ইদানীং জুটি প্রথা নিয়ে ভাবতে রাজি নন নির্মাতারা। তাদের গল্প অনুযায়ী তারকা নেওয়ার প্রতি ঝোঁক থাকে। তারকাদের ব্যস্ততার কারণে সেই জায়গায় সব সময় সফল না হলেও কোনো একটা জুটি নিয়ে ঠিকই কাজ বেরিয়ে আসে। ফলে জুটির জন্য দর্শকের আকুতি থেকেই যায়। এই সময়ে আশি-নব্বই দশকের মতো জনপ্রিয় জুটির কথা বলতে গেলে বলা যাবে না কোনো জুটির নামই। জুটি তৈরি হচ্ছে অনেক। কিন্তু তাতে সচেতনতার অভাব থাকছে। ফলে কালজয়ী জুটি পাওয়া যাচ্ছে না। এখনকার সবচেয়ে ব্যস্ত জুটির কথা বলতে গেলে বলতে হবে সজল-তিশার নাম। সংখ্যার দিক থেকে এই জুটির নাটক অগণিত। কিন্তু নন্দিত নাটকের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সম্প্রতি এই সময়ের ব্যস্ততম অভিনেত্রী আনিকা কবির শখ ও অভিনেতা আরফান নিশো জুটি হয়ে ‘তিন নম্বর হাত’ শিরোনামের নতুন একটি নাটকে অভিনয় করলেন। নাজমুল হুদা ইমনের রচনা ও পরিচালনায় নাটকের গল্পে দেখা যাবে, বন্ধুরা সবাই তাকে মোল্লা বলেই ডাকে। যে কারণে এই মোল্লা নামের আড়ালে তার আসল নামটি প্রায় হারিয়েই যায়। মোল্লা ভালোবাসে ফারিয়াকে। নানা কারণে সে মিথ্যে কথা বলে। মোল্লা আবার সেসব মিথ্যে কথা একভাবে ব্যালেন্স করে নেওয়ার চেষ্টাও করে। এই নাটকে মোল্লা চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিশো। নাটক প্রসঙ্গে নিশো বলেন, ‘প্রতিনিয়তই নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করার সুযোগ আসে। কিন্তু কিছু চরিত্র থাকে যে চরিত্রগুলো নিয়ে একটু ভাবতে হয়। তা না হলে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করা একটু কঠিনই হয়ে যায় বৈকি। অন্যরকম ভালোলাগার একটি কাজ হয়েছে ‘তিন নম্বর হাত’।’ এই নাটকে নিজের অভিনয় নিয়ে শখ বলেন, ‘ইমন ভাইয়ের নির্দেশনায় প্রথম কাজ হলেও পুরো ইউনিটটি ছিল অনেক গুছানো। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এত চমত্কার একটি নাটক নির্মাণ করেছেন যে দর্শকের ভালো লাগবেই। নিশো ভাইয়ার সাথে সবসময়ই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ তিনি নিজেই প্রায় সময়ই অভিনয় শিখিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেন, এটা খুবই পজিটিভ।’ নিশো ও শখ প্রথম জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন অঞ্জন আইচের পরিচালনায় ‘লাল শাড়ি এবং অতঃপর’ নাটকে। এরপর তারা দু’জন জুটিবদ্ধ হয়ে আরও বেশ ক’টি নাটকে অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ তারা দু’জন রুদ্র মাহফুজের রচনায় ও বি ইউ শুভর পরিচালনায় ‘ভালোবাসার কাছে ফেরা’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। এটি গত শুক্রবার রাতে এটিএন বাংলায় প্রচার হয়। নাটকে নিশো ও শখের অভিনয় বেশ দর্শক সমাদৃত হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘তিন নম্বর হাত’ শিরোনামের নাটকটি খুব শিগগিরই একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে।