মিষ্টি নামের সুন্দরী, মনকাড়া চেহারার নবাগতা বাঙালি নায়িকার আগমনবার্তা এরমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। সুন্দরী এই নায়িকার ব্যাপারে কৌতূহলী হয়ে উঠেছেন সবাই ভীষণভাবে। বলিউডে পা রাখা নতুন এই বাঙালি নায়িকা মিষ্টির কথা তুলে ধরেছেন রেজাউল করিম খোকন
প্রখ্যাত চিত্রনির্মাতা সুভাষ ঘাইয়ের আলাদা সুনাম রয়েছে নতুন নায়িকা ব্রেক দেওয়ার ক্ষেত্রে। মিনাক্ষী শেষাদ্রি, মাধুরী দীক্ষিত, মনীষা কৈরালা, মহিমা চৌধুরী, ইশা শরবানির মতো নায়িকাদের হিন্দি সিনেমায় সাড়া জাগানো আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তার পরিচালিত-প্রযোজিত ছবির মাধ্যমেই। একদা বলিউডে ‘মুভি মোগল’ হিসেবে পরিচিত সুভাষ ঘাই ‘কর্জ’, ‘কর্ম’, ‘হিরো’, ‘সওদাগর’, ‘পরদেশ’, ‘খলনায়ক’, ‘রাম-লক্ষণ’, ‘উত্তর দক্ষিণ’, ‘তাল’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমা নির্মাণ করেছেন। এভাবেই তিনি বলিউডে একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন প্রযোজক-পরিচালক হিসেবে। সুভাষ ঘাইয়ের সিনেমায় অভিনয় করতে বলিউডের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠিত নায়ক-নায়িকারা মুখিয়ে থাকেন সবসময়। ছয় বছর আগে সর্বশেষ ‘যুবরাজ’ ছবিটি পরিচালনা-প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। বক্স অফিসে চরমভাবে ফ্লপ হয়েছিল ছবিটি। এরপর গত ছয় বছরে আর কোনো ছবি পরিচালনা করেননি তিনি। আবার অনেকদিন পর পরিচালক-প্রযোজক হিসেবে ফিরছেন সুভাষ ঘাই। ছয় বছর পর ‘কাঞ্চি’ ছবির মাধ্যমে তার প্রত্যাবর্তন ঘটছে। ভারতের ছত্রিশগড় এলাকার ছোট্ট এক পার্বত্য শহরের এক সাহসী, বিদ্রোহী, প্রত্যয়ী চ্যালেঞ্জিং মনোভাবের তরুণীর গল্প নিয়ে ‘কাঞ্চি’ ছবিটি আবর্তিত হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার বাবার মৃত্যুর পর মেয়েটি প্রচলিত সমাজব্যবস্থা, বিদ্যমান অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এক লড়াকু তরুণী হিসেবে একসময় গোটা সমাজব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে, কাঞ্চি হয়ে ওঠে অপ্রতিরোধ্য আদর্শের প্রতীক, যে আদর্শের অনুসারী হয় এই সমাজের অসংখ্য তরুণ-তরুণী। জেগে ওঠে তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি। নারী চরিত্রকেন্দ্রিক ছবি বলিউডে খুব একটা হয় না। ‘কাঞ্চি’ ছবিটির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক বিদ্রোহী তরুণী কাঞ্চি। সহজ সরল মেয়েটির চরিত্র সিনেমায় রূপায়নের জন্য একটি নতুন মুখের খোঁজে ছিলেন পরিচালক-প্রযোজক সুভাষ ঘাই। এজন্য সাড়ে তিন শ মেয়ের অডিশনও নিয়েছিলেন। কিন্তু কারও মাঝে কাঞ্চির ছায়া খুঁজে পাচ্ছিলেন না। ওই সময়ে প্রধান সহকারী পরিচালক অরিন্দম রায় কলকাতার এক উঠতি অভিনেত্রী ইদ্রানি চক্রবর্তীর ছবি দেখান তাকে। ছবি দেখে মেয়েটিকে নিয়ে আসতে বলেন সুভাষ ঘাই। কলকাতার মেয়ে ইন্দ্রানি চক্রবর্তী। ডাকনাম মিষ্টি। ডকু ফিল্ম ‘বিদেহীর খোঁজে রবীন্দ্রনাথ’ এবং বাসু চ্যাটার্জ্জির মেয়ে রুপালি গুহের ছবি ‘পরিচয়’-এ অভিনয় করেছেন। ইন্দ্রানি নামে ‘পরিচয়’ ছবিতে প্রসেনজিতের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছবিতে বাংলাদেশের ফেরদৌসও আছেন তার সঙ্গে। ‘পরিচয়’ এখনও মুক্তি পায়নি সিনেমা হলে। সেই হিসেবে বলিউডের সিনেমার মাধ্যমেই মিষ্টির রুপালি পর্দায় অভিষেক হচ্ছে। ইন্দ্রানির ডাকনাম মিষ্টিকেই পছন্দ করেছেন মুভি মোগল সুভাষ ঘাই। এখন এ নামেই পরিচিত হচ্ছেন তিনি। ‘কাঞ্চি’ ছবিতে নায়িকা হিসেবে কাস্ট হওয়ার পর পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে অভিনয়, বাচনভঙ্গি, নাচ, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো, মার্শাল আর্ট ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ‘আমি মূলত একেবারেই কাদামাটির মতো ছিলাম, আমাকে অনেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। সিনেমায় অভিনয়ে নানা কলাকৌশল রপ্ত করতে হয়েছে, ‘কাঞ্চি’ চরিত্রটি রূপায়নের ক্ষেত্রে আমি সিরিয়াস ছিলাম, আশা করি ছবিতে আমাকে প্রথম দেখে দর্শক হতাশ হবেন না। সবাই আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করবেন—তেমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে’, বলেন বলিউডে নতুন পা রাখা বাঙালি নায়িকা মিষ্টি। সুভাষ ঘাইয়ের ছবিতে নায়িকা হওয়ার জন্য যেখানে বলিউডের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠিত নায়িকারা মুখিয়ে থাকেন সেখানে মিষ্টির মতো আনকোরা নতুন নায়িকা সুযোগ পেয়েছেন। ‘কাঞ্চি’ ছবির ট্রেলর এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ছবির নাচ-গানের দৃশ্যে কাঞ্চিরূপী মিষ্টির পারর্ফমেন্স ও পর্দা উপস্থিতি দর্শকদের ইতোমধ্যেই আগ্রহী করে তুলেছে। সবাই নতুন মুখের এই বাঙালি নায়িকার জন্য অপেক্ষা করছেন। সুভাষ ঘাইয়ের আবিষ্কার মিনাক্ষী, মনীষা, মহিমাদের মতো মিষ্টিও ‘কাঞ্চি’ ছবিতে আলাদা সেনসেশন সৃষ্টি করবেন। তার নামে সেই সম্ভাবনা রয়েছে।
বলিউডে আরও একজন নতুন বাঙালি নায়িকার উত্থান ঘটুক—তা আমাদেরও প্রত্যাশা।
