২০১০ সালে রিলিজ পায় পূজার প্রথম একক অ্যালবাম ‘প্রজাপতির মন’। এরপর ২০১২ সালে ভ্যালেন্টাইন দিবসে রিলিজ পায় তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘পূজা’। এছাড়াও পূজা গান গেয়েছে বেশকিছু মিক্সড অ্যালবামে। এর মধ্যে ইমারানের সাথে করা ‘দূরে দূরে’ গানটি পূজাকে শ্রোতা জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। পূজার গানের শুরুটা পাঁচ বছর বয়স থেকে। মা গান করতেন। সেই রেশ ধরেই গান করা। গানের প্রথম হাতেখড়ি মায়ের কাছ থেকেই। তারপর আরও অনেকের কাছ থেকে তালিম নেন পূজা। এরপর ২০০৮ সালে যোগ দেন ‘সেরা কণ্ঠ’ রিয়ালিটি শোতে। সেখানে শীর্ষ দশে জায়গা করে নেন। এরপর থেকেই মিডিয়ায় পথ চলা শুরু পূজার। এরপর একটু একটু করেই বুঝতে শেখা এই মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি। সর্বশেষ এবারের বৈশাখে আসছে তার তৃতীয় একক অ্যালবাম। এবারের অ্যালবামের রিলিজের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন করেছেন তার লেবেল কোম্পানি। এবারে পূজার নতুন অ্যালবাম ‘পূজা রিটার্নস’ বের হচ্ছে।
নিজের এই কোম্পানি বদল প্রসঙ্গে এক গাল হেসেই পূজা বলেন, ‘ওই যে বললাম, শুরুতে একটু একটু করে ঠেকে শিখেছি। প্রথম দিকে হয়তো অনেক কিছু না বুঝেই অনেক খরচ করতে হয়েছে। এখন বুঝি কোন খাতে কতটা খরচ করলে বেস্ট আউটপুট পাবো।’
এই ইন্ডাস্ট্রিতে সবার সাথেই দারুণ সম্পর্ক রেখেই একটি সুন্দর ইমেজ নিয়েই সময় কাটান পূজা। পড়াশোনার পাশাপাশি হুটহাট করে রেকর্ডিং সেশন থেকেই ছুটে হয়তো আড্ডা দিতে চলে যান কোনো কফি শপে। পূজার কথায়, ‘আমি তো আগে থেকেই আড্ডাবাজ। তবে খুব অল্প মানুষ আছে আমার আড্ডার সঙ্গী। আমি ওদের সাথেই চলি। হুট করে কারও সাথে আমার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না।’
‘পূজা রিটার্নস’ অ্যালবাম আর বর্তমান অডিও বাজারের প্রসঙ্গ টেনে পূজা বলেন, ‘এখন অ্যালবাম বের করাটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। শ্রোতা গান শুনছে। তবে এখনও সেটা বিক্রির ভালো উপায় তৈরি হচ্ছে না। সেটা তো আমাদের দায়িত্ব না।’ তবে এখনকার গানে কালারফুল মিউজিক ভিডিও প্রসঙ্গে পূজার মতামতটা একেবারে ইতিবাচক। কথা উঠতেই বলেন, দেখুন আপনাকে সময়ের সাথেই তো চলতে হবে। এখন ইচ্ছে করে সময়কে টেক্কা দিয়ে বিপরীতে চলাটা বোকামি।’
পড়াশোনা আর মিউজিক রেকর্ডিংয়ের ফাঁকেই বিভিন্ন স্টেজ শোয়ের কাজটি সারেন পূজা। তার ভাষ্যে, ‘আমার প্র্যাকটিসটা নিয়মিতই হয়। তবে স্টেজ শোগুলো বেছে বেছে করতেই পছন্দ করি। এ যাবত্ যতগুলো শো করেছি, তার সবকটিই খুব বড় মাপের কনসার্ট। প্রতিটি কনসার্টেই আমরা খুব মজা করি। যেমন কিছুদিন আগে বরিশালে বৈশাখী কনসার্টে একসাথে নিজেদের বন্ধু-সহকর্মী শিল্পীদের সাথেই গেলেন।’ পূজার কথায়, ‘আমার তো মনেই হয়নি কনসার্টে যাচ্ছি। একসাথে আড্ডাবাজি আর গান করেই ফিরলাম। এভাবেই হাসি-আনন্দ গানেই সবসময় কাটাতে চাই।’
