দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরি ডুবে দু’জন নিহত হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক। উদ্ধার করা হয়েছে ৩৬৮ জনকে। ডুবে যাওয়া ফেরির অধিকাংশ যাত্রী স্কুলছাত্র। ৪৭৬ জন যাত্রীর মধ্যে সিউলের শহরতলির একটি হাইস্কুল দানওয়ানের ৩৩০ জন ছাত্রছাত্রী ছিলো। দক্ষিণ কোরীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বেসামরিক ৩৪টি জাহাজ এবং ১৮টি হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৬,৮২৫ টনের ফেরিটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দর ইনচিওন থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্যটন দ্বীপ জেজুতে যাচ্ছিল। রওনা হয়ে ২০ কিলোমিটার যাওয়ার পর বাইউঙ্গপুঙ দ্বীপের উপকূলে ফেরিটি ডুবে যায়। ৯০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ফেরিটি ঠিক কী কারণে ডুবে গেছে তা জানতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের কয়েকজন জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়ার আগে তারা বিকট শব্দ শুনতে পান এবং জাহাজটি দুলতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাহাজটি ডুবে যেতে শুরু করে। তারা একে অন্যকে ধরে থাকার চেষ্টা করেন। যাত্রীরা চিত্কার করতে শুরু করেন। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার সম্য় কেউ কেউ পানিতে লাফিয়ে পড়েন। তবে অনেকে বের হতে পারেননি।
ফেরিটির একপাশ সম্পূর্ণরূপে ডুবে যায়, অন্য পাশের সামান্য অংশ ভেসে ছিলো। ডুবে যাওয়ার পর বেশ কয়েকজনকে তীরে তোলে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের লোকজন। এরপর উদ্ধারকারী জাহাজগুলো তাদের উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধার করা যাত্রীদের মধ্যে ১৩ জন আহত হয়েছে। কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজটি ডুবতে দুই ঘন্টার বেশি সময় লেগেছে। উদ্ধারকারী দল অনেক যাত্রীকে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। যাত্রীদের তীরে নিয়ে আসার পর দেখা যায় তাদের মধ্যে দু’জন মারা গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারী। উদ্ধার হওয়া এক ছাত্রী স্থানীয় বার্তা স্ংস্থা ইয়োনহ্যাপের কাছে বলেছেন, দুর্ঘটনার সময় ফেরিটি দুলতে থাকে।
