কংসনদীর বেইলি সেতুতে ১৫ বছরে ২৩০ জন নিহত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫৩
রাজধানী ঢাকার সাথে সড়কপথে পাহাড়ী উপজেলা হিসাবে খ্যাত দুর্গাপুর উপজেলার সংযোগ সড়কটির জারিয়ার নিকট কংস নদীর উপর দীর্ঘতম বেইলী সেতু এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ১৫ বছরে এই সেতুতে দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ১৯৯৫ সালে কংস নদীর উপর পাকা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা রেখে পিলারের উপর অর্থাভাবে এই বেইলী সেতু নির্মাণ করা হয়। ঐ সময়ে পাকা সেতু নির্মাণ করা হলে দুর্ঘটনা ঘটতো না এবং প্রাণহানিও হতো না বলে এলাকাবাসীর অভিমত। বেইলী সেতু নির্মাণ করায় এখন শুধুমাত্র একটি ট্রাক বা বাস চলাচল করতে পারে। বেইলী সেতুর প্রশস্ততা এত কম যে, ট্রাক বা বাস চলার সময় অপরদিক থেকে কোন ট্রাক-বাস এমনকি কোন লোকও চলাচল করতে পারে না। সেতুর উত্তরদিকে ৫০টি বালির ট্রাক আটকে গেলে ঘন্টা দু’য়েকের আগে অপরপ্রান্ত থেকে অন্য যানবাহন চলতে পারে না। এতে করে যাত্রীবাহী বাসগুলো যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে বাসচালকরা অভিযোগ করছেন। নেত্রকোনা জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ঢাকা-দুর্গাপুর সড়কের চারটি বেইলী সেতুর পাকাকরণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এই চারটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। তবে জারিয়াতে কংস নদীর উপর নির্মিত বিরাট বেইলী সেতু সরিয়ে পাকা সেতু নির্মাণ করতে হলে ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন। তাদের কাছে কোন বরাদ্দ না থাকায় এখানে বেইলীর পরিবর্তে পাকা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে নবনির্বাচিত দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমদাদুল হক খান এবং পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, তারা কংস নদীর উপর অবিলম্বে পাকা সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ এলাকার দু’জন সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল এবং ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।