মির্জাপুরে আবার অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩০
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় আবার অবৈধভাবে গ্যাস চুরির মহোত্সব চলছে। সরকারি মূল্যের ৪ হাজার ৫শ’ টাকার গ্যাস চোরাই পথে সংযোগ হচ্ছে ৯০ হাজার টাকা থেকে দেড় লাখ টাকায়। চক্রটি প্রায় দুই হাজার বাসাবাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৮ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় গ্যাস চুরির খবর প্রকাশ হলে প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসলেও মাঝপথে এসে থেমে গেছে। চক্রটি প্রচারণা চালাচ্ছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে চলছে গ্যাস সংযোগ। গতকাল ঘুরে দেখা গেছে প্রকাশ্যেই চলছে গ্যাস চুরির মহোত্সব। একটি প্রভাবশালীমহল তিতাস গ্যাস অফিসের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। সারা দেশে গ্যাস সংকটের কারণে সরকার ২০১০ সালে গ্যাস সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করে। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার ২০১৩ সালের জুলাই মাসে পুনরায় গ্যাস সংযোগের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের পূর্বে যারা বৈধভাবে গ্যাসের জন্য আবেদন করেছিলেন তাদের রাইজার প্রতি ৪৫শ টাকা জমা দিয়ে বাড়িতে গ্যাস সংযোগের জন্য নির্দেশ প্রদান করে। এই নির্দেশ জারির পর থেকেই মির্জাপুরে অবৈধভাবে গ্যাস চুরির মহোত্সব শুরু হয়। যারা বৈধভাবে গ্যাসের জন্য আবেদন করেছিলেন তারা আর গ্যাস সংযোগ পাচ্ছে না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসে এই দালাল চক্র নানা অজুহাতে রাইজার প্রতি ৯০ হাজার থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা নিয়ে অবৈধভাবে বাসা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়। টাঙ্গাইলের সরকারি দলীয় প্রভাবশালী কয়েক নেতা এবং গাজীপুরের কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে চক্রটি অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। এখন আবার চক্রটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙ্গিয়ে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। কয়েকজন গ্রাহক জানান, বাড়িতে রাইজার প্রতি ৯০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ বিশ হাজার টাকা নিয়ে অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ হচ্ছে। উপজেলার শুভুল্যা, উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী, পুষ্টকারী চরপাড়া, পুষ্টকামুরী খালেরপাড়, পুষ্টকারী জেলেপাড়া, পালপাড়া, সরিষাদাইর, সাহাপাড়া, আন্ধরা, বাইমহাটি, উপজেলা সদরের প্রফেসরপাড়া, আদালতপাড়া, কুমারজানি, ত্রিমোহন নদীরঘাট, গোড়াইল, কুতুববাজার, গোড়াই, হাঁটুভাঙ্গা, ক্যাডেট কলেজ, গোড়াই মইনগরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে। গ্যাসের পাইপ দিচ্ছে অতি নিম্নমানের। সরকারি বিধিমতে পাইপ ৫/৭ ফুট মাটির নিচে রেখে সংযোগ দিতে হবে। কিন্তু এখানে এক থেকে দেড় ফুট কোন কোন ক্ষেত্রে মাটির উপর দিয়ে নিম্নমানের পাইপ বসিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ চলছে। ফলে প্রায়ই পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে। পুষ্টকারী খালের পাড় গ্রামের পাখি মিয়ার বাড়িতে অবৈধ গ্যাসের রাইজার থেকে রাতে আগুন ধরে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে এলাকাবাসী জানান। জেলা তিতাস গ্যাস এন্ড ডিস্র্বিবিউশন কোম্পানির ম্যানেজার মোঃ সুরুজ আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালীমহল অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। থানায় বেশ কিছু মামলা হয়েছে। অচিরেই অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু হবে এবং এ জন্য ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।