দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার করা আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার। বিচারপতি বোরহানউদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বুধবার এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, এই দুটি মামলায় অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১ (১) এবং ২৪২ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ গঠনের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানতে হয়। এক্ষেত্রে আইনের এ নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ গঠনের ক্ষেত্রে গত ১৯ মার্চ নিম্ন আদালতে কি ঘটেছিল সে বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে আইনজীবীরা বলেন, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালেদা জিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করেন। কিন্তু এ আবেদনের উপর শুনানি করেনি নিম্ন আদালত। এছাড়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যও জানতে চাওয়া হয়নি। তার বক্তব্য না শুনেই বিচারক খাসকামরায় বসে অভিযোগ গঠন করার আদেশ দিয়েছেন যা বেআইনি। বক্তব্যের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মামলা দুটিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক বাসুদেব রায় গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে এ দুটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন। এই অভিযোগ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। আবেদনে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। গতকাল এ আবেদনের শুনানি শুরু হয়।\
