সাংবাদিকদের মারধর ও অবরোধ করে রাখল যুবলীগ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৫
বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনের তথ্য সংগ্রহ করতে এসে যুবলীগ কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন সময় টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান রতন সরকার। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগে লিসন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালে যুবলীগের কয়েকজন কর্মী ভোট কেন্দে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সময় টেলিভিশনে দৃশ্যটি সরাসরি প্রচার করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ আপেল ও সমীরসহ অনেকে সাংবাদিক রতন সরকারকে মারধর শুরু করেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক, তানভীর হাসান তানু ও জিয়াউল হক বকুলসহ কয়েকজন আহত হন। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তারা রক্ষা পান। ঘটনার পর জেলার স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করেন। ঘটনার প্রতিবাদে ভোট কেন্দে র বাইরে তাত্ক্ষণিক কর্মবিরতি পালন করেছে জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা। এ সময় জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফজলে ইমাম বুলবুল বলেন, ‘এ ঘটনার দ্রুত কোনো বিচার না হলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’এদিকে এ ঘটনা সময় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পর মোবাইল ফোনে স্থানীয় সাংবাদিকসহ রংপুর থেকে আগত সাংবাদিকদের জীবননাশের হুমকি দেন যুবলীগের কর্মীরা। বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত ওই ভোট কেন্দে সংবাদকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে যুবলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী। পরে ঘটনাস্থলে এসে সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করেন পৌর মেয়র এসএম মঈন। পরে তাদের পুলিশের সহযোগিতায় জেলা শহরে নিয়ে আসা হয়। এ ব্যাপারে সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ খান জানান, ঘটনাটি শুনেছি। পরে পৌর মেয়রের সহযোগিতায় বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। গত ৩১ মার্চ নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ১৬ এপ্রিল সদর উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত করায় গতকাল সকাল ৮টা থেকে সদর উপজেলায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে।