ভবিষ্যতে অবশ্যই এ রকম কাজ আর করব না

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২০:১৫
আনিসুর রহমান মিলন। ছোট পর্দার এই দাপুটে অভিনেতা চলচ্চিত্রে ডেব্যু করেই নিজেকে চিনিয়ে দেন যে তিনি বেশ পোক্ত জায়গা করে নিতেই আসছেন। সেভাবেই কাজ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। নিজের পুরোনো-নতুন কাজের খবর ও প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান মিঠু এখনকার ব্যস্ততা কী নিয়ে ? ফিল্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। যার মধ্যে দুটি শুটিং শুরু হয়েছে। একটি, ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর ‘ওয়ান ওয়ে’। এই ছবিটি সম্পূর্ণ অ্যাকশনধর্মী ছবি। এছাড়াও বেশকিছু ধারাবাহিক নাটকের কাজ বাকি রয়ে গেছে। সেগুলো সময় বের করে একে একে শেষ করছি। নাটকে আপনি যেভাবে জনপ্রিয়, বড়পর্দার ক্ষেত্রে কী সেই ধারাবাহিকতাটা বজায় থাকছে? আমি তো বড় পর্দায় একেবারেই নতুন। তবে আমার দুটি ছবি ‘দেহরক্ষী’ ও ‘পোড়ামন’ করার পর খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। সেটা আমার ভক্তদের কাছে থেকে শুরু করে মিডিয়াতে আমার যত ভাই, বন্ধু—সবার কাছে থেকেই পজিটিভ ও সম্ভাবনাময় কথা শুনছি। ছোটপর্দায় চেষ্টা করেছি তাদের ভালো কাজ উপহার দিতে। ইনশাল্লাহ বড়পর্দায়ও তাদের নিরাশ করব না। চলচ্চিত্রে অনেকে ‘ডিজিটাল’ শব্দ দিয়ে চমক লাগাতে চাইলেও হলেও গল্প বা ধারার দিক থেকে এখনও একঘেয়েমি বা নকল ব্যাপারটা রয়েই গেছে। এই ব্যাপারে কী বলবেন? আমিও একমত যে মেকিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের এখনও গাফিলতি রয়েই গেছে। তবে আমরা সামনে এগোচ্ছি। আর নকলের ব্যাপারটা সত্যিই হতাশাজনক। এই ব্যাপারটা নিয়ে অনেক অভিযোগই উঠছে। আমিও কিছুদিন আগে ফেসবুকে অনেক সমালোচনা দেখলাম। তবে যাদের ব্যাপারে এই অভিযোগগুলো উঠেছে তাদের অনেককেই আমি কাছে থেকেই চিনি। তাদের সাথে কাজও করেছি। তাদের মেধার ব্যাপারে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তারা কেন এই কাজগুলো করছে আমার জানা নেই। এইসব নকলের ব্যাপারে আপনি কতটা সচেতন? আমি শতভাগ সচেতন। ছবিতে সাক্ষর করার আগে আমি অবশ্যই গল্প নিয়ে পরিচালকের সাথে বসি। এবং সেক্ষেত্রে যদি হলিউড বা বলিউডের দৃশ্য থাকে তা পরিচালক আমাকে বলেন। সেই জায়গাটা থেকে শুধু বিষয়টা রেখে আর সবকিছুই বদলে দেওয়া হয়। সেই দৃশ্যের ব্যাপারে পরিচালক এবং আমি একটি সমঝোতার মাঝে আসি। তবেই আমি ছবি সাক্ষর করি। অনেকদিন ধরেই তো অভিনয় করছেন। তবে বড়পর্দায় আসতে এত বিলম্ব কেন? একটা কথা হচ্ছে আমি চাইলেই তো আর সব হবে না। সবকিছুর একটা সময় থাকে। প্রস্তুতি থাকে। আমি দীর্ঘদিন মঞ্চ এবং টিভিতে অভিনয় করেছি। তাই এত তোড়জোর করিনি। এখন আমি প্রস্তুত তাই বড়পর্দায় কাজ শুরু করলাম। আর আমাদের এফডিসিতে একটা প্রচলিত কথা আছে যে, টিভি থেকে চলচ্চিত্রে এসে বেশিদিন টিকে থাকা যায় না। সেই প্রবাদের এখন পরিবর্তন এসেছে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় আগমন। অভিজ্ঞতাগুলো কতটা আলাদা? পুরোটাই। বড়পর্দা মানেই ব্যাপকতা। ছোটপর্দায় ক্লোজআপটা বেশি থাকে বা একটি ঘরে শুটিং করলে তার একটি কর্ণার হলেই হয়ে যায়। কিন্তু চলচ্চিত্রের পর্দায় যেহেতু আমাকে পুরোপুরি দেখানো হচ্ছে তাই অভিনয়ের সময় শুধু ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন না, হাত-পায়ের মুভমেন্টের ব্যাপারেও খেয়াল রাখতে হয়। দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনও করছেন। কিন্তু কিছু দুর্বল নির্মাণের বিজ্ঞাপনে আপনাকে দেখা যায়। এ রকম সস্তা বিজ্ঞাপনে কাজ করার যুক্তি কী আপনার কাছে? আসলে কাজ করতে হলে বিভিন্ন দিকেই নজর রাখতে হয়। বিজ্ঞাপনের বাজেটটা তো দেয় প্রোডাক্ট কোম্পানি। তাই তাদের টাকার উপর ভিত্তি করেই সবকিছু নির্ভর করে। আমার এই বিজ্ঞাপনটির জন্য আমিও ভুক্তভোগী। আর নির্মাতার ধারণা ছিল যে আমি কাজটা ভালো করব। তাই সম্পর্কের খাতিরেই কাজটি করা। কিন্তু নির্মাতার মেধার কোনো ঘাটতি নেই ঘাটতি হচ্ছে টাকার অংকের। তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই এ রকম কাজ আর করব না। ছোটপর্দায় মমর সাথে অনেক কাজ করা হয়েছে। বড়পর্দায় কাজ করার সময় অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল? বোঝাপড়ার ব্যাপারে অনেকে সাহায্য হয়েছে। যেহেতু ছোটপর্দায় অনেক কাজ করেছি। তাই বুঝতে পারতাম ও কেমন বা কীভাবে ডেলিভারিটা দিবে। আর ওর ক্ষেত্রেও সুবিধা হয়েছে। দুজনা একসাথে বলেই বড়পর্দার রসায়নটাও আমরা উপভোগ করেছি।