ফরিদপুরের জাহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে রায় যে কোন দিন

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৪৬
ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র, পলাতক বিএনপি নেতা এমএ জাহিদ হোসেন ওরফে খোকনের বিরুদ্ধে একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার কার্যক্রম শেষে এই রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন। এর আগে সকালে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবদুস শুকুর খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোকলেছুর রহমান পাল্টা জবাব দেন। খোকনের বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষ মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করেছে। তবে আসামিপক্ষ আশা করে, খোকন এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের বিষয়ে প্রসিকিউটর মোকলেছুর রহমান বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার হিসেবে জাহিদ নগরকান্দা থানায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ম পরিবর্তন, দেশান্তরসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগই রাষ্ট্রপক্ষ তথ্য প্রমাণ দিয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস শুকুর খান বলেন, আমার মক্কেলের নাম এমএ জাহিদ খোকন। ট্রাইব্যুনালে যার বিরুদ্ধে ৭১ সালে করা অপরাধের অভিযোগে বিচার করা হচ্ছে, তার নাম খোকন রাজাকার, খোকন মাতব্বর। আমার দাবি হলো, এমএ জাহিদ খোকন ও খোকন রাজাকার এক ব্যক্তি নন। আমি আশা করি, তিনি অভিযোগ থেকে খালাস পাবেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৬ জন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনকে হত্যা, তিনজনকে পুড়িয়ে হত্যা, ২ জনকে ধর্ষণ, ৯ জনকে ধর্মান্তরিত করা, ২টি মন্দিরসহ ১০টি গ্রামের বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, সাতজন গ্রামবাসীকে সপরিবারে দেশান্তরে বাধ্য করা ও ২৫ জনকে নির্যাতনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ আনা হয়।