চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থকরি ফসল আম। জেলায় প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে অন্তত ১৮ লাখ আম গাছ রয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আম চাষ করা হয়।
আমের ফলন নির্ভর করে প্রকৃতির ওপর। এবারে আম গাছে মুকুল এসেছে দেরিতে। গুটি বের হয়েছে পর্যায়ক্রমে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তেমন ছিল না বলে অধিকাংশ গাছে মুকুল আসলেও অনেক গাছে ছোটবড় গুটি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে চলছে প্রচণ্ড খরা। অনাবৃষ্টির কারণে অকালে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। আম উত্পাদকরা মনে করছেন এখন দরকার বৃষ্টি। বৃষ্টি না হলে ফলন আশানুরূপ হবে না। আগাম, মধ্যম, নাবী, গুটি ও আশ্বিনা আমের উত্পাদন নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত উত্পাদকরা। অনেক বড়বড় আশ্বিনা বাগানে মুকুল আসেনি বললেই চলে।
প্রতিবছর আম বাগান কয়েকবার হাতবদল (বিক্রি) হয়। অধিক মুনাফার লোভে অনেক আম ব্যবসায়ী কয়েক বছরের জন্য বাগান কিনে নিয়ে লাগামহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করেন। জানা গেছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন কীটনাশক মিশিয়ে ককটেল বানিয়ে স্প্রে করা হয় আম গাছে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়ছে আম বাগানগুলো। অনেকেই মনে করেন কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে না পারলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাগান এক সময় ‘নাই’ হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. শরফ উদ্দিন জানান, আম এদেশে চাষযোগ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরি ফসল। দেশে বাণিজ্যিকভাবে ৭০টি ফলের চাষ হচ্ছে। আম তার মধ্যে অন্যতম। বৈচিত্র্যপূর্ণ ব্যবহার, পুষ্টিমান, স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় ফল হলেও আমবাগানে কীটনাশকের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য হয়ে উঠছে হুমকি! বালাইনাশকের ব্যবহার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে করা হলে একদিকে আমের উত্পাদন বাড়বে, অন্যদিকে কমবে বাগান ধ্বংসের ঝুঁকি। বর্তমানে অধিক পরিমাণে কীটনাশকের ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে উপকারী পোকামাকড়। ফলে স্বাভাবিক উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে জটিল রোগে। গত কয়েক বছর ধরে আম বাগানে যে হারে বিভিন্ন কীটনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে, তা নিরুত্সাহিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অথবা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। শরফ উদ্দিন আরো জানান, আম মওসুম শেষে অর্থাত্ গাছ থেকে আম সংগ্রহ করার পর পরবর্তী মওসুমে আম গাছে মুকুল আসা পর্যন্ত তিনবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আম বাগানের পরিচর্যা করা হলে ভাল মানের আম উত্পাদন করা সম্ভব। আম গাছ মুকুলিত হওয়ার পর ফুল ফোটার সময় থেকে আম পাকা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তিনবার স্প্রে করলেই চলে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার আমের উত্পাদন আশানুরূপ না হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক আমের উত্পাদন কমবেশিও হতে পারে। প্রচণ্ড খরায় অব্যাহতভাবে আমের গুটি ঝরে পড়ায় এই আশংকা প্রতিদিনই বাড়ছে আম চাষিদের মাঝে।
