সেন্টমার্টিনে সমুদ্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ঢাকার আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের সন্ধান তিন দিনেও মেলেনি। এই দুই ছাত্র হলেন ইশতিয়াক বিন মাহমুদ উদয় ও সাব্বির হাসান। এর আগে সেন্ট মার্টিন থেকে চার ছাত্রের লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দ্বীপের চারদিকে কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির লোকজন নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধানে তত্পরতা চালাচ্ছেন। কিন্তু উদয় ও সাব্বির হাসানের কোনো সন্ধান মেলেনি।
সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার লে. শহিদ আল আহসান জানান, নিখোঁজ দুই ছাত্রকে উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্নভাবে দ্বীপের চারদিকে তল্লাশি চালাচ্ছে। টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন থেকে যেসব মাছ ধরার নৌকা সাগরের দিকে যাচ্ছে, তাদের সাগরে ভাসমান কিছু দেখতে পেলে মোবাইল ফোনে কোস্টগার্ডকে জানানোর জন্য বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ দুই ছাত্রের লাশ গভীর সাগরে ভেসে গেছে। তাই সেন্টমার্টিন চ্যানেলে টহলে আসা নৌবাহিনীর জাহাজ বিএন শাপলাকে দ্বীপের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অভিযানে থাকতে বলা হয়েছে। সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলতে থাকবে।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া চার ছাত্রের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আহ্ছানউল্লাহ বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ শিক্ষার্থী স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে গত সোমবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বেড়াতে যান। এদের মধ্যে কয়েকজন সাগরে গোসল করতে নামলে নয়জন ভাটার টানে ভেসে যান। পাঁচজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় জনগণ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে ইভান ও সাদ্দাম মারা যান।
