বরিশালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র্যাব-পুলিশের সংঘর্ষ

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৯
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব-পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশ ও র্যাব সদস্যসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে বাস শ্রমিকরা লাঞ্ছিত করায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরে যেতে বললে শুরু হয় এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষে বরিশাল-পটুয়াখালী-ভোলা মহাসড়ক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাখাওয়াত হোসেন অনু স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য গতকাল সকাল ১০টায় রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে একটি বাসে ওঠে। অনু ক্যাম্পাসের সামনে নামতে চাইলে সেখানে বাস না থামিয়ে অদূরে ভোলার রাস্তার মোড়ে তাকে নামিয়ে দেয় বাস শ্রমিকরা। এনিয়ে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলে তারা অনুকে মারধর করে। এর প্রতিবাদে স্থায়ী শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছাত্রদের বেপরোয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। তখন পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র্যাব। এ সময় পুলিশ ও র্যাব রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দেয়। পুলিশের নির্বিচারে লাঠিচার্জে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তানভীর কায়সার, র্যাব-পুলিশের তিন সদস্যসহ ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৯ ছাত্রসহ ১১ জনকে শেরে বাংলা চিকিত্সা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে গতিরোধক ও বাসস্ট্যান্ড নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নির্ধারণ, শিক্ষার্থীদের নির্যাতনকারী পরিবহন শ্রমিকদের বিচার এবং শিক্ষার্থীদের উপর গুলি বর্ষণকারী কোতয়ালী থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেনের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন সাংবাদিকদের জানান, বুধবারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গতকাল বেলা ১১টায় বাসস্ট্যান্ডের জায়গা নির্ধারণ করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শিক্ষার্থীরা আগের ঘটনার জের ধরে সড়ক অবরোধ এবং যানবাহন ভাংচুর শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুল কাইয়ুম ঘটনার জন্য পরিবহন শ্রমিক ও পুলিশকে দায়ী করেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আ. রউফ জানান, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ছাত্ররা সড়ক ছেড়ে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। তবে সংঘর্ষের সময় কত সংখ্যক বুলেট ও টিয়ার সেল ছোড়া হয়েছে তার সঠিক সংখ্যা তিনি জানাতে পারেননি।