বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব তেমন পড়েনি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ এ সামর্থ্য দেখাতে পেরেছে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবাই তাই মনে করেন। ২০০৮ থেকে বিশ্বমন্দা বাহ্যিক রূপ নেয়। ধীরে ধীরে তা প্রকট হয়। বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দা কাটিয়ে উঠলেও অত্যন্ত ধীরগতিতে পুনরুদ্ধার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা বা আইএমএফ-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৪ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। ২০১৩ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলোতে পুনরুদ্ধারের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১৫ সালে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে সংস্থাটি প্রত্যাশা করছে। দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বমন্দার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশে। শুধু বাংলাদেশ নয়; চীন, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা- এই পাঁচটি উদীয়মান অর্থনীতির পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তানজানিয়া, কেনিয়া, ইথিওপিয়াসহ হাতেগোনা কয়েকটি দেশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেশ সফল হয়েছে। এ দেশগুলো বিগত পাঁচ বছর ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার অর্জন বজায় রাখলেও গত বছর থেকে ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা এমনকি চীনের অর্থনীতিতে শ্লথ ভাব দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এখানে ব্যতিক্রম। গত পাঁচ বছর ধরেই বাংলাদেশের অর্থনীতি সমানতালে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। পুঁজিবাজারের আচরণের দিক থেকেও বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। ২০০৭ সাল থেকেই নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুট, টোকিও প্রভৃতি বিশ্বসেরা পুঁজিবাজারগুলোতে শেয়ারের দাম পড়তে শুরু করে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বিশ্লেষকগণ এ থেকেই ধারণা করেছিলেন যে বিশ্ব অর্থনীতিতে দুর্যোগ আসছে। ঘটেছেও তাই। নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিটে ডাউ জোনসের শেয়ারের মূল্যসূচক ২০০৭-এর অক্টোবরে ছিল ১৫ হাজার ১১২ পয়েন্ট। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা ৭ হাজার ৫৪৫-এ নেমে আসে। শেয়ারের এই ব্যাপক দরপতনের অর্থই হচ্ছে, বিশ্বের বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো লাভ করতে পারেনি বা লোকসান দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। ২০০৯ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। মন্দা গভীর হওয়ার সাথে সাথে শেয়ারের দরপতনও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি যে আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ডাউ জোনসের সূচকের দিকে তাকালেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সূচক বেড়ে ১৬৫৭২ হয়। যদিও গত সপ্তাহে তা ১৬ হাজারে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর থেকে শেয়ারের মূল্যসূচক লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। ২০০৮ এর ডিসেম্বরে মূল্যসূচক ২৮০০ থেকে দুই বছরে বেড়ে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ৮৬০০ ছাড়িয়ে যায়। ২০১১ সালেই তা আবার ৫২০০ এ নেমে আসে। যা এখন ৪৬০০ এর মধ্যে আছে। এমনটি হয়েছিল ১৯৯৬ সালেও। সেই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সূচক ছিল ৮০০-এর কাছাকাছি। বছর শেষে তা ৩০০০ ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯৭ সালেই তা আবার ৭৫০ এ নেমে যায়। কাকতালীয়ভাবে উভয় ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই এই দুটি নজিরবিহীন শেয়ারবাজার ধস হয়েছে। এজন্য মিডিয়া, বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা সরকারের অবহেলাকে দায়ী করেন। যদিও ওয়াল স্ট্রীটে ব্যাপক ধসে মিডিয়া, বিনিয়োগকারী বা বিশ্লেষক কেউই তখনকার বুশ প্রশাসনকে দায়ী করেনি। বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারেও মূল্যসূচকে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। কিন্তু কেউই সরকারকে দোষারোপ করেনি। তারা দায়ী করেছে বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে। যাদের অপরিপক্বতার কারণে কোম্পানিগুলো লোকসান দিয়েছে। ফলে মূল্যসূচক হ্রাস পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে সরকারের কিছু গাফিলতি ছিল। তখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আইন-কানুন ছিল না। নীতিতে প্রচুর ফাঁক ছিল। অস্বচ্ছতা ছিল। কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে ১৯৯৬ সালে এবং ২০১০ সালে। তারা কারসাজি করে পুঁজিবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। লোকসানের কবলে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা; যারা হুজুগে গা ভাসিয়ে দিয়ে জমি-জমা, সোনা-দানা বিক্রি করে কেউ কেউ উচ্চসুদে টাকা ধার করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছে। উচ্চমূল্যে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার কিনেছে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে যে ঝুঁকি আছে তা তারা জানতে চায়নি। জানলেও তা পাত্তা দেয়নি। ফলে অনেক ক্ষুদ্র নতুন বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হয়েছে। যারা বাজারে অনেকদিন ধরে ছিল তাদের অবশ্য লাভ থেকেই গচ্ছা গেছে। তাই তাদের লোকসানটা গায়ে লাগেনি। সরকার শুরুতে বিষয়টি হাল্কাভাবে নেয়। পরে আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে একটি তদন্ত কমিটি করে। কমিটি তিন মাস পর একটি রিপোর্ট দেয়। এতে তারা ধসের কারণ এবং প্রতিকারমূলক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করে। তারপর সরকার শেয়ারবাজার নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা-ভাবনা শুরু করে।
পুঁজিবাজার সামষ্টিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিশ্বব্যাপী বিবেচিত হলেও বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের আচরণ অর্থনীতির ভাল-মন্দের ওপর নির্ভর করেনি। কারণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তখন সক্রিয় ছিল না। তদুপরি আইন ও নীতির অস্পষ্টতা ছিল। কারসাজিকারীদের সাথে যোগসাজশ ছিল। তাই সরকার ২০১২ সাল থেকে বিএসইসিকে পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যেই বিএসইসির জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে বিএসইসিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালনা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা হয়েছে। শেয়ার বাজারে কারচুপি ও অনিয়ম দূর করতে বিএসইসিতে সার্ভেল্যান্স সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার করা হয়েছে। প্রি-আইপিও প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে পুঁজি উত্তোলনের অপব্যবহার বন্ধ করা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য দশ টাকায় রূপান্তর করা হয়েছে। ফলে শেয়ার ভাগ করে শেয়ার মূল্য বৃদ্ধির যে কারসাজির সুযোগ ছিল তা বন্ধ হয়েছে। কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালক সম্মিলিতিভাবে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। রাইট ইস্যুর ক্ষেত্রে কর্পোরেট গভর্নেন্স গাইড লাইনস প্রতিপালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইপিও-তে আবেদনকৃত কোম্পানির সম্পদ মূল্যায়নের নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সুদ মওকুফসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এক্সচেঞ্জ ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন প্রণয়ন করে ডিমিউচুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর ফলে এক্সচেঞ্জগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে লেনদেনের অধিকার পৃথক করা হয়েছে। একটি আধুনিক, স্থিতিশীল ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে ১০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ সিকিউরিটিজ কমিশনগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গত ডিসেম্বরে বিএসইসিকে “এ” ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে। এই স্বীকৃতি দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সহায়ক হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুওর’স এবং মুডি’স গত চার বছর ধরে বাংলাদেশের ঋণমান অপরিবর্তিত রেখেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার মার্ক অতিক্রম করা এবং চলতি মূলধনে স্থিতি ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশের ঋণমানে আরও উন্নতি হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বমন্দার কারণে ধনী দেশগুলোর সার্বভৌম ঋণমান যখন অবনমন হয়েছে তখন বাংলাদেশের ঋণমানে উন্নতি হচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতিও স্থিতিশীল রয়েছে। এর ফলে বিদেশ থেকে ঋণ পাওয়া সহজ হবে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বলেছে যে, গত প্রায় একবছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেশ ভাল। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিচারেও এ অর্জন উত্তম। আগামী বছর দেশের প্রবৃদ্ধি আরও বাড়বে বলেও তারা পূর্বাভাস দিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি বিশ্বের আস্থা বেড়েছে। ফ্রান্সের আর্থিক ও বীমা প্রতিষ্ঠান “কোফাস” বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনার নতুন দশটি দেশের একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মানিলন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে সরকারের শক্ত অবস্থানের কারণে গত ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের আওতা থেকে মুক্ত হয়েছে। এতেও পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সহজ হবে। বাজারে গতিশীলতা বাড়বে। পুঁজিবাজার সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকার ২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে। এর আওতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিচালক হতে ২ শতাংশ শেয়ার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন অনেকে প্রশ্ন করছেন, বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। যা অনেক পরিচালকের পক্ষেই সম্ভব নয়। এই চক্র এতদিন মূলধন ছাড়াই বাজারে ব্যবসা করেছে। এখন ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করা বাধ্যতামূলক করায় কোম্পানির দায় তাদের ওপরও পড়বে। এতে পরিচালকদের জবাবদিহি ও কোম্পানির প্রতি মমত্ববোধ বাড়বে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কমে আসবে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ারবাজারে ব্যাংক এবং তাদের সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের সমন্বিত বিনিয়োগ সীমা তাদের পরিশোধিত মূলধনের ২৫ শতাংশে নির্ধারণ করে দেয়। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের নামে প্রতারকচক্র বাজারের স্বাভাবিক ধারায় হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি শেয়ারবাজারে নিয়মিত বিনিয়োগ করে এমন ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। কোম্পানিগুলোও স্বাভাবিকহারে লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। গতবছর আইপিওর মাধ্যমে ১২টি কোম্পানির শেয়ার বাজারে এসেছে। নতুন ১৮টি কোম্পানির শেয়ার এখন বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে। দেশের প্রায় ২৯ লাখ ৩৮ হাজার বিও হিসাবধারীর জন্য এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর। সরকার ২০১২ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ২১টি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত ৫টি কোম্পানিকে আরও শেয়ার বিক্রির ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেয়। দেড়বছরে মাত্র একটি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং একটি কোম্পানি তালিকাভুক্তির আবেদন করেছে। অবশ্য তালিকাভুক্ত ৫টি কোম্পানিই অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করছে। কোনো কোনো পুঁজিবাজার বিশ্লেষকের মতে, সরকারি কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে আসলে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হবে। এর বিপরীত মতামতও আছে। অনেকের মতে, শেয়ারবাজারে বেসরকারি খাতের আইপিও আসছে। আবার সরকারি খাতের কোম্পানিগুলো আইপিও ছাড়লে এত শেয়ার কেনার অর্থ কোথা থেকে আসবে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোকে বিনিয়োগসীমা বেঁধে দেয়ায় তারা আগের মতো বিনিয়োগকারীদের আমানতকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারছে না। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যার খুব প্রয়োজন ছিল।
শেয়ারবাজার নিয়ে সরকার এখন অনেক বেশি সচেতন হয়েছে। তাই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ার সম্ভাবনা এখন অনেক কমেছে। তারপরও সতর্ক থাকতে হবে যাতে এই চক্র নতুন কোনো ফন্দি-ফিকির বের করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পকেট হাতিয়ে নিতে না পারে। তাদের অনেক অনৈতিক চাপ থাকবে। কারণ, এই চক্রের হাত অনেক লম্বা। সরকারকে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে সেই চাপ মোকাবেলা করতে হবে। সরকারের সার্বিক পদক্ষেপের ফলে সেকেন্ডারি মার্কেটেও ঝুঁকি অনেক কমেছে।
