দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া সত্যিই অতুলনীয়। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও দেশটির উন্নয়ন অগ্রযাত্রা সম্মুখগামী। গত ১০ বছর ধরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হচ্ছে গড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে। যা বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট করছে।
অর্থনৈতিক এ গতির উপর নির্ভর করে দেশটি আন্তর্জাতিক বন্ডের চাহিদার প্রধান দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। গত বছরের জানুয়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সভরেন বন্ড ছাড়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত তা চূড়ান্ত করেনি। এজন্য সে সময়ের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কেউ কেউ দায়ী করেন। কিন্তু বিরোধী দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এখন আপাতত নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ শান্ত। সুতরাং অস্থিতিশীলতা খুব স্বল্পস্থায়ী বলেই বিবেচিত হচ্ছে। যা বন্ড মার্কেটে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থান দিবে। আর তাই এখনই বন্ড ছাড়ার মোক্ষম সময়।
এদিকে ২০১২ সালে আইএমএফ’র সঙ্গে করা এক চুক্তির আওতায় তিন বছরের জন্য ৯৮৭ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা দিবে। আইএমএফ এ ঋণ দিয়েছে যেন বাংলাদেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংহত রাখা যায়।
এদিকে আইএমএফ পাকিস্তানকে ১০ বছরের জন্য আড়াই বিলিয়ন ডলার বন্ড ছাড়ার বিষয়ে সহযোগিতা করে। এক্ষেত্রে মুডি’র রেটিং ছিল সিএএ১ এবং স্ট্যান্ডার্ড এবং পুর-এর রেটিং ছিল বি- যা বাংলাদশের তুলনায় কম। মুডি বাংলাদেশকে বিএ৩ রেটিং করেছে। সুতরাং বাংলাদেশের বন্ড আরও আকর্ষণীয় হবে।
পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফ’র অর্থ যোগ হওয়ার পর রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৩ সালের এপ্রিলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে উপনীত হয়েছে। তবে অতি সম্প্রতি তা ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে বিভিন্ন দেশের সাথে লেনদেন করা সহজ হয়ে পড়েছে। অর্থাত্ আন্তর্জাতিক বন্ড ইস্যু করাও সহজ হয়েছে।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সভরেন বন্ড ছাড়ার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশকে সফল হতে হলে সভরেন বন্ড ছাড়ার জন্য একটি বিনিয়োগকারী ভিত্তি খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে চাহিদা তৈরি করতে হবে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সময়ই বাংলাদেশের জন্য বন্ড ছাড়ার উত্তম সময়।
[গ্লোবাল ক্যাপিটাল অনুসরণে]
