নগর সংস্কৃতি

‘মনুষ্যরূপী অসুর বিনাশে হও আগুয়ান’

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০৯
‘মনুষ্যরূপী অসুর বিনাশে হও আগুয়ান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘জাতীয় গণসংগীত উত্সব’। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, শোষণ-নির্যাতন-সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার গণসংগীত। গণমানুষের হূদয় নিঃসৃত বাক্যের সুরেলা উচ্চারণ প্রেরণা যোগায় বিপ্লবীদের। গণসংগীতের এ ধারাকে বেগমান করতে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এ উত্সব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুক্রবার বিকালে এক গুচ্ছ রঙিন বেলুন উড়িয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও সংগীতজ্ঞ সুজেয় শ্যাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উত্সব উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, গণসংগীত এমনিতেই সৃষ্টি হয় না। গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে, গণসংগীত লেখা বা সুর করা সম্ভব নয়। সেই কারণে এর চর্চা কমে গেছে। এ উত্সবের মাধ্যমে নতুন গণসংগীত ও নতুন গণসংগীত শিল্পী উঠে আসতে হবে, অন্যথায় এর উদ্দেশ্যে ব্যাহত হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সম্মিলিত কণ্ঠে গণসংগীত পরিবেশন করেন স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্রের শিল্পীরা। এরপর একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন বাকশিল্পী রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সম্মিলিত গণসংগীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, দৃষ্টি, সিলেটের সিলেট গণসংগীত দল, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ময়মনসিংহ শাখা, চট্টগ্রামের আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, পটুয়াখালীর সুন্দরম ও জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদের রাজশাহী শাখার শিল্পীরা। একক কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন আব্দুল জব্বার, নিলুফার বানু লিলি, আরিফ রহমান, কল্পনা লালা ও ফকির মাহবুব মোর্শেদ। একক আবৃত্তি করেন ঝর্না সরকার। নৃত্য পরিবেশন করে বহ্নিশিখার নৃত্যশিল্পীরা। চলচ্চিত্র সংসদের সুবর্ণজয়ন্তী: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের বছরব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান শেষ হলো শুক্রবার। এদিন সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৩ জনকে সুবর্ণজয়ন্তী পদক, ৩১ জনকে সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক সম্মাননা ও ১ জনকে চলচ্চিত্র গবেষণায় অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবীণ চলচ্চিত্র সংসদকর্মী হাসনা বেগম ও বিধান বড়ুয়া। সুবর্ণজয়ন্তী উদ্্যাপন উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মাহবুব জামিলের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়োজনের সহযোগী শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সুবর্ণজয়ন্তী পদক পেয়েছেন আলমগীর কবির (মরণোত্তর), মাহবুব জামিল ও মুহম্মদ খসরু। সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক সম্মাননা পেয়েছেন কবির চৌধুরী (মরণোত্তর), মোশারফ হোসেন চৌধুরী (মরণোত্তর), লায়লা সামাদ (মরণোত্তর), বাহাউদ্দিন চৌধুরী (মরণোত্তর), আনোয়ারুল হক খান (মরণোত্তর), আলম কোরায়শী (মরণোত্তর), ওয়াহিদুল হক (মরণোত্তর), সৈয়দ হাসান ইমাম, এম আব্দুস সামাদ (মরণোত্তর), শেখ নিয়ামত আলী (মরণোত্তর), আবদুস সেলিম, সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী, মসিহউদ্দিন শাকের, সিরাজুল ইসলাম খান, বাদল রহমান (মরণোত্তর), কাইজার চৌধুরী, মাহবুব আলম, সুশীল সূত্রধর, মানজারে হাসিন মুরাদ, লায়লুন নাহার সেমী, শামীম আখতার, তানভীর মোকাম্মেল, তারেক মাসুদ (মরণোত্তর), সাজেদুল আউয়াল, মোরশেদুল ইসলাম, আহমেদ মুজতবা জামাল, আনোয়ার হোসেন পিন্টু, ইফতেখারুল ইসলাম টিটন, মাহমুদুল হোসেন, শৈবাল চৌধুরী ও মুনিরা মোরশেদ মুন্নী। চলচ্চিত্র গবেষণায় অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে অনুপম হায়ােক। সুচিত্রা সেন চলচ্চিত্র উত্সবঃ মহানায়িকা সুচিত্রা সেন স্মরণে শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে বছরব্যাপী কর্মসূচির আওতায় তার জন্মদিন উপলক্ষে একাডেমীর জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে দর্শনীর বিনিময়ে চলচ্চিত্র উত্সব। প্রথম দিন প্রদর্শিত হয় ‘দেবদাস’। ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আজ ‘চম্পাকলি’, ২০ এপ্রিল ‘মমতা’, ২১ এপ্রিল ‘আঁধি’, ২২ এপ্রিল ‘বোম্বে কা বাবু’, ২৩ এপ্রিল ‘জীবন তৃষ্ণা’, ২৪ এপ্রিল ‘মরণের পরে’, ২৫ এপ্রিল ‘সন্ধ্যা দীপের শিখা’ ও ২৬ এপ্রিল ‘ত্রিযামা’ প্রদর্শিত হবে।