বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম নির্বাচিত নেতা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বলেছেন, ‘৭০ এর নির্বাচনে পূর্ব বাংলা তথা বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে নেতা বানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার লন্ডনে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ‘৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিরাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্যকেউ যুদ্ধ ঘোষণা করলে তা সন্ত্রাসী কর্ম হিসাবে চিহ্নিত হত।
সভায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির দায়ে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়েরের জোর দাবি জানালেও সৈয়দ আশরাফ তা নাকচ করে দেন।
বিএনপি’র ইতিহাস বিতর্কের জবাবে সৈয়দ আশরাফ সংবিধানের একটি কপি হাতে নিয়ে বলেন, ‘যে সন্তান মা-বাবার বিয়ের কাবিন মানে না তাকে কী বলে? এ সংবিধান হল বাংলাদেশের কাবিন। আমরা অবাধ্য সন্তান হতে চাই না’।
তারেক রহমানের বয়স, অভিজ্ঞতা দুটোই কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা তারেক রহমানকে এমন পরামর্শ দিয়েছে তারা জিয়া পরিবারের ভাল চায় না। এ বিতর্ক বিএনপি’র জন্য ক্ষতিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি তার মাশুল দিচ্ছে উল্লেখ করে আশরাফ বলেন, বিএনপির সিনিয়র নেতারা এখন তাকে বলছেন ‘আশরাফ ভাই, সত্যি সত্যি নির্বাচন করবেন এটা আপনি সিরিয়াসলি বললেন না কেন? আপনি সিরিয়াসলি বিষয়টা বললে আমরাও নির্বাচন করতাম’। সৈয়দ আশরাফ বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো দল নির্বাচন না করে টিকে থাকতে পারে না। কেউ নির্বাচন না করলে সে জায়গাও ফাঁকা থাকে না। অন্য কেউ তা দখল করে নেয়। বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তিনি তাদের সাধুবাদ জানান।
বিএনপি’র আন্দোলনের হুমকির জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, শেখ হাসিনা যদি চান এ সরকার পাঁচ বছরই ক্ষমতায় থাকবে। কোনো অবৈধ পন্থায় সরকারের পতন ঘটানো যাবে না বলে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সামসউদ্দিন খান, শাহ আজিজুর রহমান, মারুফ চৌধুরী প্রমুখ।
