নোয়াখালীতে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১২
নোয়াখালী সদর উপজেলার কালীতারা বাজারের ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন (২৮) নিখোঁজ হবার ১২ ঘন্টা পর গতকাল শুক্রবার ভোরে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি স্থানীয় কালিতারা বাজারে তেলের ব্যবসা করতেন। নোয়াখালী ইউনিয়নের সল্লাঘটিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে তিনি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পিয়াস (২২), পিয়াসের স্ত্রী নূর নাহার (২০), বোন প্রমা (১৯), নানী নূরজাহান (৪৫) ও সুমন (২১) নামে অপর এক যুবককে আটক করে পুলিশ। আরিফের মৃত্যুর খবরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুপুরে অভিযুক্ত পিয়াস ও হেলালের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। মাইজদী থেকে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে রওয়ানা হলেও বিক্ষুব্ধ লোকজনের বাধার মুখে ফিরে আসতে হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবসায়ী আরিফ দোকানীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেলযোগে বের হন। এরপর ধর্মপুর ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের পিয়াস, সবুজ ও সুমন মোবাইল ফোনে আরিফকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। এক পর্যায়ে ঘরের মধ্যে শ্বাসরোধ ও মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। এরপর নূর নাহার, প্রমা ও নূরজাহানের সহায়তায় ঘরের পিছনে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। হত্যাকারীরা আরিফের কাছে থাকা নগদ টাকা ও তার ব্যবহূত মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায়। বিকালে পিয়াস ও সুমন আরিফের ওই মোটরসাইকেল নিয়ে উত্তর ওয়াপদা এলাকায় বৈশাখীমেলায় গিয়ে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করলে গণপিটুনির পর লোকজন তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করে। রাতে আরিফকে না পেয়ে তার বাবা আবুল খায়ের সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে এসে থানার সামনে ছেলের মোটরসাইকেল দেখে পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর আটককৃত সুমন ও পিয়াসকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পিয়াসদের বসতঘরের পাশে মাটি খুঁড়ে আরিফের লাশ উদ্ধার করা হয়। সুধারাম থানার পুলিশ পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন জানান, এ ব্যপারে নিহত আরিফের ভাই আমির হোসেন আজাদ বাদী হয়ে আটককৃত পাঁচজনসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মমলা দায়ের করেন। লাশ ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।