নাসিরনগরে ব্যতিক্রমী শুঁটকি মেলা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:২৩
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নাসিরনগর উপজেলার পল্লীতে দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সদরের কুলিকুন্ডা গ্রামে শত বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে প্রতিবছরে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বসে এ ব্যতিক্রমধর্মী শুঁটকি মেলা। শুধু শুঁটকি আর শুঁটকি। নানা জাতের শুঁটকির পসরা সাজিয়ে বসেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। দূর-দূরান্ত থেকে ভোজন রসিকরাও আসেন। শুঁটকি ছাড়াও এ মেলায় আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘বিনিময় প্রথা’ অথাত্ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। ভোরে এ মেলা বসার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত বিনিময়ের মাধ্যমে বিক্রি চলে। আর এ কারণেই ধারণা করা হয় এই মেলার ইতিহাস অনেক পুরনো। মেলার পার্শ্ববর্তী কুন্ডা গ্রামের ৭০ বছর বয়স্ক মোঃ বিশ্বাস আলী মেম্বার জানান, আমি যখন ছোট তখন বাপ-দাদার সাথে এ মেলায় এসেছি। আর এখনও শুঁটকি নেয়ার জন্য মেলায় আসছি। শুনেছি তারও বহু আগে থেকে এ মেলা চলছে। তবে এলাকাবাসী জানান, শত বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে এই মেলা বসছে। আলু, ডাল, সরিষা, পিঁয়াজ, রসুনসহ এলাকার কৃষকরা তাদের উত্পাদিত নানা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকি ক্রয় করেন। তবে এ প্রথা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া এ মেলায় বোয়াল, শোল, গজার, বাইম,পুটি, টেংরাসহ এমন কোন জাতের শুঁটকি নেই যা পাওয়া যায় না। তবে দেশি মাছের শুঁটকির প্রাধান্যই বেশি। এছাড়া ইলিশ ও কারফিউসহ বিভিন্ন জাতের মাছের ডিম পাওয়া যায়। এলাকার লোকজন জানান, এই মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা ছাড়াও চট্টগ্রাম,সিলেটের সুনামগঞ্জ ও দেশের অন্যান্য স্থান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন। একদিনে লাখ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। মেলা আয়োজনের কোন কমিটি নেই। তারপরও মেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। শুঁটকি বিক্রির লাখ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে যায়। এছাড়াও মেলায় গৃহস্থালী পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিক্রি হয়। যুগ যুগ ধরে এ মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লোকজন বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে থাকে। এবারের মেলায় দুই শতাধিক নানা জাতের শুঁটকির পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। তবে এবার শুঁটকির দাম চড়া থাকলেও সব বিক্রি হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ক্রেতা তাদের পছন্দমত শুঁটকি পায়নি। মেলার পাশাপাশি জুয়াড়িদের তত্পরতা ছিল লক্ষণীয়। এতে মেলায় আগতদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। মেলার পার্শ্ববর্তী ধানী জমিতে রাত পর্যন্ত চলে জুয়া খেলা।