শিরোপার আরো কাছে অ্যাটলেটিকো

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৫১
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে চেলসিকে আতিথ্য দেয়ার আগে জোয়াও মিরান্ডা ও দিয়েগো কস্তার পেনাল্টি শটে স্পানিশ শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা আরো জোরদার করলো। স্পানিশ রাজধানীর ক্লাবটি ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত লা লিগার শিরোপা জয়ের খুবই কাছাকাছি চলে এসেছে। নিজেদের মাঠ ভিসেন্টে ক্যালডেরনে এলচের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের সুবাদে দলটির এই সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়। কোচ দিয়েগো সিমিওনের দলটির জন্য যদিও অবনমনের শংকায় থাকা এলছের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধটা মোটেই ভাল কাটেনি। তার উপর বিরতির পরে ১০ মিনিটে ডেভিড ভিয়ার স্পট কিক এলচের গোলরক্ষক মানু হেরেরা আটকে দিলে দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করে অ্যাটলেটিকো। শেষ পর্যন্ত ৭১ মিনিটে হোসে সোসার ক্রস থেকে মিরানডা হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর ইনজুরি টাইমে কস্তা অ্যাটলেটিকোর পক্ষে দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে দলের জয় নিশ্চিত হয়। এই পেনাল্টিতে এলচের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান সাপুনারুকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয়। এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা অ্যাটলেটিকো রিয়াল মাদ্রিদের চাইতে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে থাকলো। অ্যাটলেটিকোর এখন মূল দায়িত্ব মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে চেলসির বিপক্ষে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এ ব্যাপারে সিমিওনে বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা দারুণ খেলেছে। এখন আমাদের মঙ্গলবারের ম্যাচের আগে নিজেদের পুরোপুরি প্রস্তুত করে তুলতে হবে। এটা ক্লাবের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ। বিশেষ করে ক্লাবের সমর্থক, ইতিহাস সবকিছুই ম্যাচটির ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে।’ যদিও খেলাটিকে সামনে রেখে অ্যাটলেটিকোকে তাদের গোলরক্ষক থিবাট কোরটোইয়েসকে খেলাতে পারবে কিনা সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। কেননা চেলসি থেকে ধারে খেলতে আসার সময় চুক্তিতে বলা ছিল ইংলিশ ক্লাবটির বিরুদ্ধে খেলতে হলে ম্যাচ প্রতি একটা বড় অংক দিতে হবে। বেলজিয়ান দলের এই খেলোয়াড় এবার অ্যাটলেটিকোর সাফল্যে ভাল অবদান রেখে চলেছেন। সর্বশেষ এই খেলাতেও তিনি দুটি গোল আটকে দিয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান। আর্জেন্টাইন কোচ সিমিওনে আশাবাদী চুক্তি সমঝোতায় কোরটয়েসকে খেলানো সম্ভব হবে। সামপ্রতিক সময়ে নিজেদের মাঠে দেখানো পারফরমেন্স থেকে অ্যাটলেটিকো এদিন নিজেদের প্রমাণে ব্যর্থ হয়। তবে বিরতির পর আদ্রিয়ান লোপেজের স্থানে আক্রমণভাগে রাউল গার্সিয়াকে নামালে পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হয়। মাঠে নেমেই তাত্ক্ষণিকভাবে গার্সিয়া আক্রমণ চালিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে গেতাফের বিপক্ষে কস্তার পেনাল্টি নষ্টের সাথে পাল্লা দিয়ে এই রাতে একই ভুল করেন ভিয়া। এর পরপরই তার দেয়া একটি গোল অফ সাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। একমাত্র গার্সিয়াই কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে খেলতে থাকেন। অবশেষে ৭১ মিনিটে গোলের দেখা পায় স্বাগতিকরা। সোসার কর্ণার থেকে অসাধারণ হেডে দলকে এগিয়ে দেন মিরানডা। ম্যাচ শেষের দুই মিনিট আগে দিয়েগো রিবার থ্রু বল থেকে কস্তা ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু হেরেরা পায়ের সাহায্যে সে যাত্রা কোনরকমে দলকে রক্ষা করেন। তবে ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কস্তা পেনাল্টি থেকে মৌসুমে নিজের ৩৫তম গোলটি পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয়ও নিশ্চিত করেন। বাসস/এএফপি